ষষ্ঠ দিনের নির্বাচনি প্রচারে সরগরম রাজধানী। ভোটারদের নানা প্রতিশ্রুতি দেয়ার পাশাপাশি প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে প্রচারণা।
ঢাকা-৬ আসনে গেন্ডারিয়া থানার বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রচার চালান বিএনপি মনোনীত প্রার্থী। প্রতিপক্ষের পরিকল্পনা অস্পষ্ট দাবি করে দূষণমুক্ত পুরান ঢাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। আর ঢাকা-১১ আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী রামপুরায় গণসংযোগের সময় অভিযোগ করেন বিভিন্ন জায়গায় প্রার্থীদের ওপর হামলা করে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করছে বিএনপি।
এনসিপির আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের দশ দলীয় জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিএনপির নেতৃত্বাধীন যে জোট রয়েছে তাদের নেতাকর্মীরাই এ আক্রমণগুলো করছে। কারণ তারা মনে করছে ১২ ফেব্রুয়ারি যদি একটি ভোট বিপ্লব ঘটে ১১ দলের পক্ষে এবং সেখানে তারা যদি পরাজিত হয় তাদের যে দুর্নীতি, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস এবং এর ওপর নির্ভর করে তাদের যে অর্থনীতি এগুলো সব বন্ধ হয়ে যাবে।’
ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আমরা যদি বড় একটি সমাবেশ ডাকি তাহলে সবকিছু বিলীন হয়ে যাবে। আমরা যদি একটি থানার প্রোগ্রাম করি তাহলেও এর থেকে বেশি লোক দেখাতে পারব।’
ঢাকা-১৬ আসনে লিফলেট বিতরণ করে গণসংযোগ করেন বিএনপির প্রার্থী আমিনুল হক। বলেন, ধর্মকে ব্যবহার করে যারা ভোট চাচ্ছে জনগণ তাদের বয়কট করবে।
ঢাকা-১৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী আমিনুল হক বলেন, ‘ধর্মকে ব্যবহার করে ইসলামকে ব্যাবহার করে আমার ধর্মপ্রাণ মুসলমান ভাইদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। যারা প্রতারণা করছে তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কাল বলেছে ছয় হাজার টাকা দিব আমাদের দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়েন। তারা টাকা দিয়ে এরইমধ্যে ভোট কেনা শুরু করেছে।’
আরও পড়ুন:
একই আসনে উঠান বৈঠক করেন জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী আব্দুল বাতেন। বলেন, কেউ ভোটাধিকার হরণ করতে চাইলে তাদের প্রতিহত করতে হবে। জেনেশুনে বিএনপি ঋণখেলাপীদের মনোনয়ন দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী আব্দুল বাতেন বলেন, ‘পূর্বের স্বৈরাচাররা চলে গেছে নতুন ফ্যাসিবাদরা চাঁদাবাজির দায়িত্ব নিয়েছে। সব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায়িত্ব নিয়েছে। তাদের পায়ের বলা থেকে মাটি সরে গেছে কি করতে হবে কি করতে হবে না তা বুঝে উঠতে পারছে না।’
ঢাকা-৭ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসহাক সরকার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনি প্রচার চালান। প্রতিশ্রুতি দেন গ্যাস সংকট দূর করাসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের।
ঢাকা-৭ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসহাক সরকার বলেন, ‘আপনারা জানেন যানজট নিয়ে সমস্যা। আমরা এ বিষয়ে কাজ করছি। আমি নিজেও এ কাজে সহায়তা করে থাকি। এখন অনেকটাই সহনীয় পর্যায়ে এসেছে।’
অভিযোগ আর প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি থাকলেও নির্বাচিত হলে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোটারদের জন্য কাজ করবেন বলে দাবি করছেন প্রার্থীরা।





