পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিলেন উপদেষ্টা ফাওজুল

উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান
উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান | ছবি: এখন টিভি
1

প্রায় এক দশক পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে জাতীয় বেতন কমিশন। কমিশনের প্রতিবেদনে প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত সব স্তরের বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়া হলেও নতুন এই পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়নি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। কমিশনের সুপারিশগুলো পরীক্ষা–নিরীক্ষার জন্য কেবল একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আজ (মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির (Advisory Council Committee on Government Purchase) সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল (New Pay Scale) নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

কমিশনের প্রতিবেদন গ্রহণ, বাস্তবায়ন নয় (Report Accepted, Not Implemented)

উপদেষ্টা নিশ্চিত করেন যে, জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন (National Pay Commission Report) সরকার কেবল গ্রহণ করেছে মাত্র, এটি বাস্তবায়নের কোনো সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি। তিনি জানান, সুপারিশগুলো আর্থিক ও বাস্তব দিক থেকে যাচাই করার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের (Cabinet Secretary) নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি আর্থিক সংস্থানসহ (Financial Resources) সব দিক পর্যালোচনা করে মতামত দেবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত (Final Decision) নেবে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার।

দীর্ঘদিনের দাবি ও বর্তমান সরকারের ভূমিকা (Long-term Demand and Interim Government's Role)

বিদ্যুৎ উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘ ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীদের (Government Employees) পক্ষ থেকে বেতন কমিশন গঠনের দাবি ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার (Interim Government) কমিশন গঠন করে এবং তারা প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন সরাসরি বা এখনই বাস্তবায়ন করা হবে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত বর্তমান সরকার নেয়নি।

আরও ‍পড়ুন:

১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য ব্যয় (Potential Expenditure of 1.06 Lakh Crore)

ফাওজুল কবির খান জানান, বেতন কমিশনের সুপারিশ হুবহু বাস্তবায়ন করা হলে সর্বোচ্চ হিসাবে সরকারের প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় (Additional Expenditure) হতে পারে। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, বাস্তবে এ ধরনের বেতন কাঠামো (Salary Structure) সাধারণত একবারে নয়, বরং ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন (Phase-wise Implementation) করা হয়, যাতে জাতীয় বাজেটের (National Budget) ওপর একসঙ্গে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।

ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য প্রস্তুতি (Preparation for Future Government)

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ সীমিত উল্লেখ করে উপদেষ্টা জানান, তারা মূলত ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য প্রস্তুতিমূলক কাজ (Preparatory Work) করে যাচ্ছেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বৃহৎ পরিকল্পনা (Energy Sector Plan) এবং বহুমুখী যোগাযোগব্যবস্থার মতোই বেতন কমিশনের বিষয়টিও সেই প্রশাসনিক প্রস্তুতির অংশ।

স্থিতিশীলতা ও মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গ (Stability and Inflation Issue)

সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে যাতে অস্থিরতা বা আন্দোলনের (Protest/Movement) পরিস্থিতি তৈরি না হয় এবং নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় কোনো প্রশাসনিক অচলাবস্থা (Administrative Deadlock) সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনা করেই এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে উপদেষ্টা দাবি করেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির (Commodity Price Hike) সঙ্গে বেতন কমিশনের সুপারিশের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই এবং বর্তমানে মূল্যস্ফীতির (Inflation) ওপর এর কোনো প্রভাব পড়ার সুযোগ নেই।

একনজরে পে-স্কেল ২০২৬: উপদেষ্টার বক্তব্যের মূল সারসংক্ষেপ


প্রধান বিষয় (Key Topic) সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ও তথ্য (Explanation)
বর্তমান অবস্থা প্রতিবেদন গ্রহণ করা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়নি।
পর্যালোচনা কমিটি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে রিভিউ কমিটি গঠিত।
সর্বোচ্চ সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ১ লক্ষ ৬ হাজার কোটি টাকা (অতিরিক্ত)।
বাস্তবায়ন পদ্ধতি একসঙ্গে নয়, ধাপে ধাপে (Phase-wise) বাস্তবায়নের সম্ভাবনা।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরবর্তী নির্বাচিত সরকার এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
মূল্যস্ফীতি পণ্যমূল্য বৃদ্ধির সাথে এই সুপারিশের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।


* উৎস: ব্রিফিং, সচিবালয় (২৭ জানুয়ারি ২০২৬)

এনএইচ