মিয়ানমারের সাধারণ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল গণনার এখনও ঢের বাকী। তবে এরইমধ্যে আভাস মিলছে দেশটির ক্ষমতার মসনদে পাকাপোক্ত হতে যাচ্ছে বর্তমান জান্তা সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি তথা ইউ.এস.ডি.পি। আগের ২ দফা নির্বাচনে উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি আসন দখলে রেখেছে দলটি।
রোববার গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত দেশটিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে তৃতীয় বা শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ। এই দফায় ইয়াঙ্গুন ও মান্দালয়ের মতো বড় শহরগুলোর ভোটাররা স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে তাদের প্রতিনিধি বাছাইয়ে অংশ নিয়েছেন। তবে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হচ্ছে বলে জান্তা সরকার দাবি করলেও এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিশ্ব মহলে প্রশ্ন উঠছে। কেননা এবারের নির্বাচনে দেশটির গৃহবন্দি নেত্রী অং সান সূচির রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিসহ বড় রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পায় নি। একারণে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও দেশ নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করে এটিকে জান্তা সরকারের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার পাঁয়তারা বলে উল্লেখ করেছে। যদিও ভিন্ন দাবি করছে দেশটির সামরিক সরকার প্রধান মিন অং হ্লাইং।
আরও পড়ুন:
মিয়ানমারের জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়গুলো কেন নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে তা বুঝতে পারছি না। তবে আমরা বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত নই। জনগণের ভোটই আমাদের স্বীকৃতি।
এছাড়া, ভোটে জিতলে মিয়ানমারের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে কৌশলী উত্তর দেন হ্লাইং। জানান, সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে। তবে গণমাধ্যমের খবর, ৬৯ বছর বয়সী এই জেনারেল প্রেসিডেন্ট পদ গ্রহণের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। এরইমধ্যে সামরিক বাহিনীর প্রধান হিসেবে যোগ্য কাউকে খুঁজছেন তিনি।
তবে গৃহযুদ্ধ বিপর্যস্ত মিয়ানমারে নেই ভোটের আমেজ। ২০১৫ ও ২০২০ সালের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৭০ শতাংশ। কিন্তু এইবারের প্রথম দুই দফায় মাত্র ৫৫ শতাংশ ভোটার অংশ নেন। এছাড়া, নির্বাচনের সময়েও দেশটিতে চলছে সংঘাত-সহিংসতা। গেল বৃহস্পতিবার দেশটির কাচিন রাজ্যের ভামো টাউনশিপে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় প্রাণ হারায় ২৮ জন। অন্যদিকে, নির্বাচন সুরক্ষা আইনের আওতায় জান্তা সরকার ভোটদান প্রক্রিয়ায় বাধা প্রদানের দায়ে অন্তত ৪০০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে।





