গতকাল (শনিবার, ২৪ জানুয়ারি) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে তার পদত্যাগের এ ঘোষণা দেন এরফানুল হক। এসময় তিনি দলের সব পদ ও দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কথাও উল্লেখ করেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগরের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-সমন্বয়কারী এবং বান্দরবান জেলা সদস্যসচিবসহ দলের সব দায়িত্ব থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
পোস্টে এরফানুল হক লেখেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল নাগরিকভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা। সে লক্ষ্য সামনে রেখে এনসিপি গঠিত হলেও, রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর দলটির একাধিক সিদ্ধান্তে জনগণ ও দলের নেতাকর্মীরা হতাশ হয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, দল গঠনের পর তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন বিস্তারের যথাযথ সুযোগ দেয়া হয়নি এবং প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রেও নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
বান্দরবান আসনের প্রার্থী মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পার্বত্য বান্দরবানের বাইরে থেকে একজন প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার মাধ্যমে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর আত্মসম্মান ও মর্যাদায় আঘাত করা হয়েছে। পাহাড়ের বাস্তবতা ও সংগ্রাম না বোঝা একজন ব্যক্তিকে প্রার্থী করা স্থানীয় জনগণের অনুভূতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’
আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বান্দরবান আসনে বিএনপির প্রার্থী সাচিং প্রু জেরীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া নিজেও তাকে ভোট দেবেন বলে এ ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপির বান্দরবান জেলা সভাপতির তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে বান্দরবান–৩ আসনে এনসিপির প্রার্থী ও দলটির যুগ্ম-সদস্য সচিব আবু সাঈদ শাহ সুজাউদ্দিন অভিযোগগুলো নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এ পদত্যাগ প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্রের অংশ, এটি পুরোনো একটি খেলা। জেলা সদস্যসচিব দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় ছিলেন এবং তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। তার পদত্যাগে নির্বাচনি মাঠে কোনো প্রভাব পড়বে না।’





