সেই দাড়িয়াবান্ধা, বৌচি, গোল্লাছুট কিংবা আনমনে কোনো শিশুর বালি নিয়ে খেলা গ্রাম বাংলার স্কুলগুলোর প্রচলিত দৃশ্য। দশকের পর দশক, গ্রাম ও মফস্বলের স্কুলগুলো এখনও একইরকম। সেই পুরনো ঘণ্টা, পুরনো স্মৃতির প্রচ্ছদ। দেশের জন্মলগ্নের পর ১৯৭৪ সালে প্রথম আদমশুমারিতে দেশে শিক্ষার হার ছিলও ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ । বিবিএস জরিপ এবং বিগত সময়ে শিক্ষার হার বৃদ্ধির তথ্য অনুযায়ী চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে শিক্ষার হার দাড়ায় প্রায় ৭৯ শতাংশ।
কয়েক দশকে শিক্ষার হার কিছুটা বাড়তে থাকলেও মানসম্মত শিক্ষার ঘাটতি রয়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা, কারিকুলাম নিয়ে সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাব, শিক্ষা উপকরণের দাম বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের ঘাটতি, অর্থনৈতিক সংকট ও অজ্ঞতাসহ নানা নেতিবাচক বিষয়।
তারা আরও জানান, শিক্ষার মানোন্নয়নে বিগত সরকারের সঠিক কোনো পদক্ষেপে চোখে পরার মতো ছিলো না। দীর্ঘমেয়াদী শিক্ষার্থী বান্ধব কোনো পদক্ষেপও বিগত কোনো সরকার নেয়নি। আর শিক্ষার হার কমানোর জন্য তারা দায়ী করছেন রাজনৈতিক অস্থিরতাকে।
গত বছরের শেষের দিকে প্রকাশিত ‘বার্ষিক প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিসংখ্যান-২০২৪’ অনুসারে ২০২৩ সালে ঝরে পড়ার হার ছিল ১৩ দশমিক ১৫ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশে।
আরও পড়ুন:
শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘পরিবার থেকে অনেক সময় সার্পোট পাওয়া যায় না। আবার গ্রামের দিকে অনেকে টাকার অভাবে পড়াশোনা করতে পারে না। এসব বিষয়ই ঝরে পড়ার কারণ।’
নরসিংদী জেলা শিক্ষা অফিসার এ.এস.এম আব্দুল খালেক বলেন, ‘বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর তাদের মতো করে কাজ করছে। আমরা আমাদের মতো করে কাজ করছি। আর নতুন সরকার আসবে নতুন নতুন পরিকল্পনা দিবে। নতুন সরকার আসলে আশা করি সমস্যা সমাধানে এক বছরের বেশি সময় লাগবে না।’
দেশে বর্তমানে ্েক লাখ ১৮ হাজার ৬০৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক কোটি ৬০ লাখের বেশি শিশু পড়াশোনা করছে।





