বিচ হ্যান্ডবল বাংলাদেশের জন্য তুলনামূলক নতুন হলেও সম্ভাবনার দিক থেকে দারুণ এক খেলা। ফিটনেস, গতি আর স্কিলের সমন্বয়ে এই খেলাটি ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে।
এক দেশ থেকে আরেক দেশে বিচ হ্যান্ডবলের ধরন বদলে যায় বালির কোয়ালিটির কারণে। তাই প্রতিটি টুর্নামেন্টেই খেলোয়াড়দের নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। ২০১৬ সালে কমনওয়েলথ বিচ হ্যান্ডবল বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সংযোজন হলেও, ভবিষ্যৎ নিয়ে ফেডারেশনের রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
বাংলাদেশ বিচ হ্যান্ডবল কোচ মাহবুব আলম চৌধুরি বলেন, ‘আমরা পরবর্তীতে বিচ হ্যান্ডবল ন্যাশনাল লিগ করবো, বিচ হ্যান্ডবল স্কুল পর্যায়েও যাবে। তখন এই খেলারটার প্রচার আরও বাড়বে। এতে ইনডোর হ্যান্ডবলে যেমন বাংলাদেশের সব বয়সে অংশগ্রহন আছে, তেমনি এটাতেও হয়ে যাবে।’
২০২৬ সালে এশিয়ান বিচ গেমস, এরপর ইসলামিক সলিডারিটি গেমসসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক আসরে অংশ নেওয়ার লক্ষ্য। তবে বড় চ্যালেঞ্জ এখনো আর্থিক নিশ্চয়তা। দেশে প্রিমিয়ার লিগ থাকলেও নেই ব্যক্তিগত কোনো চুক্তি, আর ক্লাবগুলোর পক্ষ থেকেও নেই সব সুযোগ-সুবিধা দেয়া সম্ভাবনা।
আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ বিচ হ্যান্ডবল কোচ মাহবুব আলম চৌধুরি বলেন, ‘প্রিমিয়ার লিগের সময়ে আমাদের খেলোয়ারদের সঙ্গে খন্ডকালীন চুক্তি করা হয়। কমনওয়েলথ গেম খেলে এসেছি আমরা সেখানে ভালো করেছি। আমরা ইন্ডিয়াকে হারিয়েছিলাম।’
বাংলাদেশ বিচ হ্যান্ডবল দলের উইঙ্গার খোকন মোল্লা বলেন, ‘ আমাদের ফেডারেশন বা আমাদের সরকার যদি চায় তাহলে বিচ হ্যান্ড বলে ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব। এবার চেষ্টা করবো, যেন আমরা ভালো কিছু করে ফিরে আসি।’
ইনডোর হ্যান্ডবলের তুলনায় বিচ হ্যান্ডবল শারীরিকভাবে ভিন্নধর্মী। ক্যাম্পারদের ৩৬০ ডিগ্রিতে শ্যুট করতে হয়, বালির ওপর দ্রুত মুভমেন্টে দরকার মাল্টি-ফিটনেস। তবে ইনডোর হ্যান্ডবলের খেলোয়াড়দের জন্য এই খেলায় মানিয়ে নেয়া তুলনামূলক সহজ বলেই মনে করছেন কোচিং স্টাফ।
কোচ মাহবুব আলম চৌধুরি আরও বলেন, ‘ফিটনেস বলতে স্পিড, এন্ডুরেন্স, এজিলিটির একটা কমপ্যাক্ট প্যাকেজ একজন খেলোয়ারের মধ্যে থাকতে হবে। একটা মাল্টি প্যাকেজ থাকতে হবে তাহলেই খেলোয়াররা সুপার পারফরমেন্স দিতে পারবে। নাহলে বিচ হ্যান্ডবলে পারফরমেন্স দেখানো কঠিন হয়ে যাবে।’
কমনওয়েলথের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আসন্ন এশিয়ান বিচ টুর্নামেন্টে বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ দল।





