মৃত্যুর পরোয়ানা যেন পিছু ছাড়ছে না গাজাবাসীর। তীব্র শীত আর ঝড়ের পূর্বাভাসে যখন আশ্রয়ের চিন্তায় নির্ঘুম রাত পার করছেন, তখন গাজার স্বাস্থ্য দপ্তরের চিকিৎসক দিয়েছেন চাঞ্চল্যকর তথ্য।
গাজা সিটির আল-শিফা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিচালক তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলুকে জানিয়েছেন, শ্বাসতন্ত্রে নতুন এই ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে রোগীরা। এর সংক্রমণের হার এতটাই তীব্র যে ভেঙে পড়তে পারে পুরো উপত্যকার স্বাস্থ্যব্যবস্থা। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, নতুন এই ভাইরাসে আক্রান্তদের অধিকাংশই শিশু ও বয়স্ক। আরও আশঙ্কার বিষয় আক্রান্ত রোগীদের উপসর্গ ফ্লু বা করোনার মতো।
গাজাবাসীর ভোগান্তির এখানেই শেষ নয়। গেল সপ্তাহে মিডিয়া অফিস জানিয়েছিল বৈরি আবহাওয়ায় উপত্যকাটির ১ লাখ ৩৫ হাজার শরণার্থী তাঁবুর মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজারই এখন ব্যবহারের অনুপযোগী। সোমবার আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গাজার দিকে এগিয়ে আসছে আরও একটি শীতকালীন ঝড়।
এদিকে, গেল অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর কেটে গেছে শততম দিন। ১৬ জানুয়ারি ঘোষণা করা হয়েছে দ্বিতীয় ধাপ। এর সঙ্গে সঙ্গে শান্তি পর্ষদ নামে নতুন এক কমিটি বানানোর ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এ কমিটির কাজ হবে গাজার প্রশাসনিক ক্ষমতার দায়িত্ব নিতে যাওয়া ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটির কাজ পর্যবেক্ষণ।
এরইমধ্যে হামাস জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কমিটির কাছে গাজার প্রশাসনিক ক্ষমতা হস্তান্তর করতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তত। তবে নিরস্ত্রীকরণ ও গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের প্রশ্নে অনড় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠনটি।
এরইমধ্যে, শান্তি পর্ষদে যোগ দেওয়ার জন্য বিশ্বের ৬০টি দেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ওয়াশিংটন। বৃহস্পতিবার ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সাইড লাইনে ট্রাম্পের নেতৃত্বে একটি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেবে এই শান্তি পরিষদের সদস্যরা।
কিন্তু এখানেও আছে বিপত্তি। অনেকেই এ কমিটিতে থাকার আগ্রহ দেখালেও ভিন্ন মত ফ্রান্সের ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর। এতে চটেছেন ট্রাম্প। হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, শান্তি পর্ষদে যোগ না দিলে ফ্রান্সের ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের ওপর ২০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করবেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ম্যাক্রোঁ এই কথা বলেছেন! তাকে কেউ পছন্দ করে না। দ্রুতই তাকে দায়িত্ব ছাড়তে হবে। তারা এমন আচরণ করলে আমরাও চুপ থাকবো না। তাদের ওয়াইন ও শ্যাম্পেইনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক বসাবো।’
এদিকে, আন্তর্জাতিক বাহিনীর অংশ হিসেবে গাজায় তুরস্ক ও কাতারের সেনা প্রবেশ করতে দেবেন না বলে সাফ জানিয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। তবে দেশের জনগণের আস্থা ধরে রাখতে পারছেন না নেতানিয়াহু। ৭ অক্টোবরের হামলা পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে রাষ্ট্রীয় তদন্তের দাবি জানিয়ে সোমবারও ইসরাইলি পার্লামেন্টের সামনে বিক্ষোভ করেছেন দেশটির সাধারণ মানুষ।





