বিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর মাস থেকে উৎপাদনের বাইরে। এর আগে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়।
পরে প্রায় ১৫ দিন পর গত ১৪ জানুয়ারি প্রথম ইউনিটটি পুনরায় চালু হলেও মাত্র চার দিন উৎপাদনের পর আজ (রোববার, ১৮ জানুয়ারি) সেটি পুনরায় বন্ধ হয়ে যায়।
সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, প্রথম ইউনিটের বয়লারের পুরো টিউব ফেটে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। প্রায় এক হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার বয়লারটি ঠাণ্ডা হলে মেরামতকাজ শুরু করা হবে।
তবে কবে নাগাদ আবার উৎপাদনে ফেরা যাবে, তা এ মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তার মতে, এবারের মেরামত শেষে উৎপাদনে ফিরতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। প্রথম ইউনিটটি অনেক পুরনো হওয়ায় প্রতি পাঁচ বছর পরপর মেরামতের প্রয়োজন হয়; ইতিমধ্যে এর বয়স প্রায় ২০ বছর।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) পরিচালিত বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কয়লার ওপর নির্ভর করে এ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হারবিন ইন্টারন্যাশনালের তত্ত্বাবধানে থাকা ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটের যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতের কাজ চলছে।
চীন থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ পৌঁছালে তৃতীয় ইউনিটটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী মার্চ মাসে উৎপাদনে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিটের যন্ত্রাংশের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গড়িমসি করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির সব ইউনিট বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।





