আসন্ন সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন প্রবাসীরা। পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবী, নির্বাচনি কর্মকর্তা ও আইনি হেফাজতে থাকা ভোটাররাও এই ব্যবস্থার ভোট দিতে পারবেন।যার জন্য দেশ ও বিদেশ মিলিয়ে এরই মধ্যে নিবন্ধন করেছেন ১৫ লাখ ৩৩ হাজারেরও বেশি ভোটার।
তবে সামাজিক-মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বাহরাইন, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের ভিডিওতে দেখা যায় নির্বাচন কমিশনের সাথে সম্পর্কিত নয় এমন ব্যক্তিরা বিপুল সংখ্যক পোস্টাল ব্যালট গুনছেন। এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দিকে আঙুল তুলেছে বিএনপি। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়ার পাশাপাশি পোস্টাল ব্যালটে ধানের শীষ প্রতীক ভাঁজের মাঝখানে থাকার বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছে দলটি।
তবে জামায়াতে ইসলামী বলছে বিদেশে তাদের দলের কোনো শাখা নেই। অভিযোগ ভিত্তিহীন।
আরও পড়ুন:
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘বাংলাদেশের বাইরে কোনো দলেরই কোনো শাখা রাখার বিধান নেই। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বাংলাদেশের বাইরে কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নাই। জামায়াতে ইসলামী অমুক দেশ এমন কোনো রাজনৈতিক দল আমাদের নাই। অন্যান্য দলগুলোর আছে। আরপিওকে সরাসরি ভায়োলেন্স করে উনারা এটা করেছেন। যে অভিযোগটা করেছেন এটা একটা ভুয়া অভিযোগ আমি মনে করি।’
আর পোস্টাল ব্যালট নিয়ে বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করে এনসিপি বলছে তাদের এ ধরনের দাবি গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত।
এনসিপির মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘যতদূর আমরা জানি এটা প্রতীকের নামের অক্ষরের ক্রমানুসারে দেয়া হয়েছে। যদি একটা প্রসেস ফলো করা হয় আমার মনে হয় না সেখানে প্রসেস নিয়ে কথা ওঠতে পারে। কিন্তু এ ধরনের গুজব ছড়ানো যে তাদের ভোট কমানোর জন্য এমন করা হয়েছে এটা হাস্যকর। আমরা দেখেছি অনেকে বলছেন পোস্টাল ব্যালট বন্ধ করতে হবে। এটা এক ধরনের অশনিসংকেত।’
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন- নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের কারণে পোস্টাল ব্যালট নিয়ে জালিয়াতির সুযোগ নেই। তবে গুজব ছড়ানোর কারণে ভোটারদের মাঝে কিছুটা আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য আব্দুল আলিম বলেন, ‘প্রত্যেক ভোটার যখন ভোট দেবে তখন তাকে একটা কিইউআর কোড স্ক্যান করতে হবে। এবং এটা একজনের সঙ্গে আরেকজনের মিলবে না। দুই হচ্ছে তাকে লাইভ ছবি আপলোড করতে হবে। এগুলো ছাড়া ভোট দেয়া সম্ভব না। কাজেই আমরা যদি মনে করি আমার ভোট আপনি দেবেন আপনারটা আমি দেব সে সুযোগটা এখানে নাই। আর তারপরেও বড় কথা হচ্ছে এ ঘটনাটা কেন ঘটছে। এটা এক ধরনের গুজব বা বিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি করে দিয়েছে। এজন্য ইলেকশন কমিশনের উচিত হবে বাইরে এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এসব জায়গায় মেসেজ দিয়ে দেয়া যে এ কাজগুলো যেন না করা হয়।’
এদিকে, বিএনপির দাবির মুখে দেশের অভ্যন্তরে ব্যবহৃত পোস্টাল ব্যালটের ডিজাইনে পরিবর্তন আনার ইঙ্গিত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে প্রবাসী ভোটারদের পোস্টাল ব্যালটে পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন ইসি আব্দুর রহমানেল মাসঊদ।





