গ্রিনল্যান্ডে ইউরোপীয় সেনা মোতায়েন; ‘প্রভাবিত হবে না’ ট্রাম্পের অবস্থান

ডোনাল্ড ট্রাম্প, গ্রিনল্যান্ড
ডোনাল্ড ট্রাম্প, গ্রিনল্যান্ড | ছবি: সংগৃহীত
0

ইউরোপের কয়েকটি দেশ গ্রিনল্যান্ডে সীমিত সংখ্যক সেনা পাঠিয়েছে। ইউরোপীয় দেশগুলোর মতে, এ সেনা মোতায়েন প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করার অংশ। এদিকে হোয়াইট হাউজ বলছে, ইউরোপীয় সেনা পাঠানোর ফলে এ অঞ্চল সম্পর্কে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিন্তাভাবনা প্রভাবিত হবে না। আর দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা শাসিত বা মালিকানাধীন হতে চায় না এবং এটি ডেনমার্কের অংশই থাকবে বলে পুনর্ব্যক্ত করেছেন গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী।

গ্রিনল্যান্ডের ওপর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চোখ যেন সরছেই না। সবশেষ হোয়াইট হাউজে, যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকেও নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি ওয়াশিংটন। ডেনিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গ্রিনল্যান্ড দখলে ট্রাম্পের আগ্রাসী পরিকল্পনা ঠেকিয়ে দিতে ব্যর্থ হয়েছেন তারা।

এমন পরিস্থিতিতে গ্রিনল্যান্ডে সেনা পাঠানো শুরু করেছে ইউরোপীয় দেশগুলো। গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুউক এ ডেনমার্ক ও ফ্রান্স ইতোমধ্যেই স্বল্প পরিসরে সেনা পাঠানো শুরু করেছে। জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস এবং যুক্তরাজ্যও একে একে সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ট্রাম্পের আকাঙ্ক্ষিত দ্বীপটিকে সুরক্ষিত রাখতে ন্যাটোর শক্ত অবস্থান নিশ্চিতেই এমন উদ্যোগ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডে ফ্রান্স ইতোমধ্যেই সেনা মোতায়েন শুরু করেছে। ধীরে ধীরে আরও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করা হবে বলেও জানান তিনি।

ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘ইউরোপীয়দের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। এ অঞ্চলটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। ফ্রান্স এখানে সামরিক মহড়ায় যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফরাসি সেনাদের একটি দল এর মধ্যেই গ্রিনল্যান্ডে পৌঁছেছে।’

এদিকে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন হতে চায় না এবং এটি ডেনমার্কের অংশ হয়েই থাকবে বলে আবারও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন।

আরও পড়ুন:

তিনি বলেন, ‘এখন সময় হলো ঐক্যের; অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং আলোচনার নয়। গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন হতে চায় না। গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা শাসিত ও নিয়ন্ত্রিত হতে চায় না। গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে চায় না।’

এদিকে গ্রিনল্যান্ডে ইউরোপীয় সেনা পাঠানোয় অঞ্চলটি নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ। রাশিয়া ও চীন থেকে সুরক্ষা নিশ্চিতে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানায় থাকা উচিত বলেও জানানো হয়।

হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ‘আমার মনে হয় না গ্রিনল্যান্ডে ইউরোপীয় সেনা মোতায়েনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন আসবে। এটি তার সিদ্ধান্তেকে প্রভাবিত করবে না।’

এদিকে রাশিয়া বা চীনের গ্রিনল্যান্ড দখলের যে আশঙ্কা করছে যুক্তরাষ্ট্র- তা উড়িয়ে দিয়েছে মস্কো।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, ‘রাশিয়া বা চীন কেউই এমন কোনো পরিকল্পনার কথা বলেনি। এমন কোনো যৌক্তিক তথ্য নেই, যা এ ধরনের অভিযোগকে সমর্থন করে। গ্রিনল্যান্ডের আশেপাশে রাশিয়া ও চীনের কিছু উপস্থিতি বর্তমান উত্তেজনার কারণ হিসেবে অগ্রহণযোগ্য। এ বিষয়ে চীনের অবস্থানের সাথে আমরা একাত্মতা প্রকাশ করছি।’

এদিকে ইউরোপীয় সেনাদের উপস্থিতিতে গ্রিনল্যান্ডবাসী কিছুটা স্বস্তি বোধ করলেও, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসনের আশঙ্কায় এখনও উদ্বিগ্ন তারা।

এসএস