জামায়াত সেক্রেটারি তার বক্তব্যে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন।
এসময় তিনি অন্য রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও যারা চাঁদাবাজি, ঘের ও জমি দখল, সন্ত্রাস ও লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের হাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা তুলে দিলে সাধারণ মানুষ তো বটেই, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জানমালও নিরাপদ থাকবে না।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ফ্যাসিস্টরা আর ক্ষমতায় ছিল না। তাহলে এরপর যারা চাঁদাবাজি করলো, ঘের দখল করলো—তারা কোন দলের লোক?’
স্বাধীনতার ৫৪ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাস টেনে তিনি বলেন, ‘লাঙ্গল, নৌকা, ধানের শীষ—সব প্রতীকের দলই রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে, এমনকি সামরিক শাসনও এসেছে। কিন্তু কোনো দলের কোনো নেতা বা সরকারপ্রধান বুক চিতিয়ে বলতে পারেননি যে, তারা দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও জুলুমমুক্ত শাসন দিয়েছেন। প্রত্যেক আমলেই এ দেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।’
আরও পড়ুন:
নিজের সংসদ সদস্য থাকার সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এই জামায়াত নেতা বলেন, ‘আমি এমপি নির্বাচিত হওয়ার সময় ডুমুরিয়াকে ভয়াবহ সন্ত্রাসকবলিত এলাকা হিসেবে পেয়েছিলাম। সন্ধ্যার আগে মানুষ ঘরে ঢুকে পড়তো। প্রতিদিন মরদেহ, গুম, হাত-পা কাটার আতঙ্কে মানুষ রাত কাটাতো। আলহামদুলিল্লাহ, আমার ৫ বছরে সন্ত্রাসকবলিত সেই ডুমুরিয়াকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে পেরেছিলাম।’
তিনি দাবি করেন, এমপি থাকাকালে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করেছেন এবং কোনো কাজের বিনিময়ে কারও কাছ থেকে এক টাকাও নেননি তিনি। এক কাপ চাও নয়।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘উন্নয়নকাজের পূর্ণ হিসাব ইউনিয়ন ও খাতভিত্তিকভাবে বই আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মন্দির, রাস্তা, বিদ্যুৎ, টিউবওয়েল, শ্মশান—সব কাজেই স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়েছে।’
আরও পড়ুন:
বর্তমান নির্বাচনি প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আবারও দুর্নীতিবাজদের ক্ষমতায় ফেরানোর ষড়যন্ত্র চলছে। এমপি বানানো হবে একজনকে, কিন্তু তিনি থাকবেন ঢাকা বা লন্ডনে। আর এলাকায় তার সাগরেদরা চাঁদাবাজি, মাস্তানি ও ঘের দখল চালাবে।’
তিনি জানান, সাড়ে সাত বছর কারাবন্দি থাকার কারণে তিনি একাধিক নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি, এমনকি ভোট দেয়ার সুযোগও পাননি। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আসন্ন নির্বাচন নিরপেক্ষ হলে জনগণ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এদিন তিনি বৈদ্যুতিক শর্ট-সার্কিটে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ খর্নিয়া ইউনিয়নের আঙ্গারদহা গ্রামের কৃষ্ণ কুন্ডু, রাজু কুন্ডু ও গপি কুন্ডুর খোঁজ নিতে যান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান ও জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুসসহ দলের নেতাকর্মীরা।





