২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে অং সান সু চি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ৫ বছরেও মিয়ানমারে থামেনি গৃহযুদ্ধ উত্তেজনা। এরমধ্যেই নানা সমালোচনা উপেক্ষা করে দেশটিতে সাধারণ নির্বাচনের আয়োজন করে জান্তা সরকার।
তিন ধাপের মধ্যে ২৮ ডিসেম্বর হয়েছে প্রথম ধাপের ভোট।
এরইমধ্যে ওইদিনের ভোটের আংশিক ফলাফলও প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে নিম্ন কক্ষের ৪০টি আসনের মধ্যে ৩৮টিতে জয় পেয়ে এগিয়ে আছে জান্তা সরকার সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি। আর শান ন্যাশনালিটিস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এবং মন ইউনিটি পার্টি পেয়েছে একটি করে আসন। তবে প্রথম ধাপে ১০২টি শহরে ভোট হলেও মোট কতটি আসনে ভোট হয়েছে তা পরিষ্কার করা হয়নি।
আরও পড়ুন:
প্রথম ধাপে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে বলে দাবি করছে জান্তা সরকার। যদিও ২০১৫ ও ২০২০ সালে হওয়া নির্বাচনের তুলনায় এই হার অনেক কম। এমনকি এবারের নির্বাচনে ভোট দেয়ার জন্য জান্তা সরকার জনগণকে চাপ দিচ্ছে বলেও অভিযোগ আছে।
অং সান সু চির ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি পার্টিসহ অন্যান্য জান্তা-বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারায় ভোটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রথম থেকই প্রশ্ন তুলেছে জাতিসংঘ ও পশ্চিমা বিশ্ব। এটিকে পাতানো নির্বাচন হিসেবেও আখ্যা দিয়েছেন মিয়ানমারের সাধারণ মানুষ। আর এই নির্বাচনকে জান্তা সরকারের শাসন ব্যবস্থার বৈধতা দেয়ার কৌশল হিসেবে দেখেছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে দেশটির ৩৩০টি শহরের মধ্যে ২৬৫টিতে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্তেও জান্তা বিরোধী সমালোচনার ঝড় বইছে। যার মধ্যে আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত রাখাইনসহ বেশ কয়েকটি শহরের নিয়ন্ত্রণ নেই জান্তা সরকারের হাতে। দ্বিতীয় ধাপে ১১ জানুয়ারি ১০০টি টাউনশিপ বা শহরে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। আর তৃতীয় ধাপে ৬৩টি শহরে ভোটগ্রহণ হবে ২৫ জানুয়ারী। তবে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার কোনও তারিখ জানানো হয়নি। তবে সব সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের দাবি জান্তা সরকারের।





