জোট রাজনীতির হিসাব-নিকাশ: কার পাল্লা ভারী, বিএনপি নাকি জামায়াত?

বিএনপি বনাম জামায়াত জোট ২০২৬, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন জোট
বিএনপি বনাম জামায়াত জোট ২০২৬, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন জোট | ছবি: এখন টিভি
0

বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃত্বাধীন দুই জোটের মধ্যেই আসছে নির্বাচনের মূল লড়াই হবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ইসলামী দলগুলোকে এক ছাতার নিচে আনা এবং গণঅভ্যুত্থানে অগ্রণী দল এনসিপিকে নির্বাচনী সমঝোতায় নিয়ে আসাকে জামায়াতের জোট রাজনীতিতে চমক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। অপরদিকে পুরানো ও জোটমিত্রদের অধিকাংশ ধানের শীষে প্রতীকে নির্বাচন করায় দলটি সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে বলেও মনে করেন তারা। বিশ্লেষকরা এও বলছেন, এবারের নির্বাচনে জোট ও ভোটের সফলতায় বড় ভূমিকা পালন করবে নারী ও রাষ্ট্র সংস্কার ইস্যু।

যুগপৎ আন্দোলন দিয়ে শুরু। কাছাকাছি দেখা গেছে সংস্কারের আলোচনায়। তবে অন্তরালের সব গুঞ্জন সত্যি হয়ে ধরা দিলো গেল রোববার। একই সাড়িতে ইসলামী ও সমমনা ৮ দল। জানালেন জোট নয় ঠিক, সমঝোতা, আসনগুলোতে বোঝাপড়া করেই দাড়াচ্ছেন ১০ দলের নেতারা। বিশেষজ্ঞরা একে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী জামায়াতের নির্বাচনী একাদশ হিসেবেই দেখছেন, যার লক্ষ্য একটি শক্তপোক্ত ভোটের লড়াই।

রাজনীতি বিশ্লেষক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক যে ইসলামী দলগুলো, সেগুলোর সাথে জামায়াতের একটা ভিন্নতা ছিলো। কিন্তু এ প্রথমবারের মতো এ ইসলামী দলগুলো জামায়াতে ইসলামীর সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।’

রাজনীতি বিশ্লেষক ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন বলেন, ‘চব্বিশের আন্দোলনের পরে জামায়াত অনেকটাই মানুষের কাছে চলে আসতে পেরেছে। আগে যেমন একটা নেগেটিভ ধারণ ছিলো ওইটা থেকে বরং একটু আস্থাই আসছে। জামায়াতে আমির তো অনেকবারই সরি বলেছেন। বিশেষ করে এনসিপি যখন তাদের সাথে গেল আমার মনে হয় যে সেটা মানুষ ভালোভাবেই নিবে।’

আরও পড়ুন:

তারেক রহমান দেশে ফেরার পর জোট নিয়ে জট খুলে গেছে বিএনপিরও। বিএনপির সঙ্গে নির্বাচন করছেন গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর। আছেন মাহমুদুর রহমান মান্না, গনসংহতির জোনায়েদ সাকিও।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জোটের হিসেবে আগের আদর্শগত কিছু নীতিতে পরিবর্তন স্পষ্ট তবে বিএনপি মধ্যপন্থি হিসেবেই মাঠে নামছে।

ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন বলেন, ‘এখানে ধানের শীষ তো পরিচিত প্রতীক। এ প্রতীকে মানুষও সবাই জানে, ভোটাররা জানে। সুতরাং এখান থেকে বিএনপি একটা বিশাল সুবিধা পাবে। ওইদিক থেকে আবার জামায়াত একটু পিছিয়ে থাকবে। কারণ ওখানে অনেক ভাগাভাগি। সেখানে সবাই যে অনেক পরিচিত তাও না। সেখান থেকে আমার মনে হয় বিএনপি অনেক সুবিধা পাবে।’

বিশ্লেষকদের মত, জোটের সফলতা কিংবা ভোটে গতিপথ নির্ধারণ করবো রাষ্ট্রসংস্কার ও জনসংখ্যার অর্ধেক নারীদের ভাবনা।

ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিএনপি এখন কিছু ডানপন্থি কিন্তু তারা কিছুটা সেন্ট্রিস এবং কিছুটা লেফট দিকে তাদের প্রবণতা মনে হচ্ছে। সুইং ভোটারের ক্ষেত্রে তারা কিছু ভোট আওয়ামী লীগের পাবে। কারণ আওয়ামী লীগের যারা আছে তারা তো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।’

ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন বলেন, ‘৫০ শতাংশ নারীকে তো কেউ না দেখে থাকতে পারবে না। তাদেরকে আনতেই হবে। তাদের হিসাবের মধ্যে আনতে হবে। যদি আনতে হয় তাহলে তাদের ভালো ভালো প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যাতে করে মেয়েরা আকৃষ্ট হয়।’

ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সংস্কারের বিষয়টা যদি এনসিপি, জামায়াত ইসলামীসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারে বিশেষ করে শিক্ষিত তরুণ যারা ভোটার তাহলে এই ইস্যুটা আমার মনে হয় যে তাদের পক্ষে এটা ইতিবাচক হিসেবে কাজ করবে।’

সব মিলিয়ে এই দুই জোটই আগামী নির্বাচনের মূল খেলোয়াড় বলছেন তারা।

ইএ