ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্রেস্ট ক্যান্সার জয়ী নারীরা কক্সবাজারের সাগরপাড়ে কাটিয়েছেন দু’দিন। যেখানে নেই হাসপাতালের দেয়াল, নেই চিকিৎসার ক্লান্তি; আছে কেবল দিগন্ত বিস্তৃত সমুদ্রের মোহময়তা, মুক্ত আকাশ, ধ্যান, সঙ্গীত, হাসি আর একে অপরের সান্নিধ্য।
গোলাপি রঙের পোশাকে থাকা নয় নারীর দিনের সূচনা হয় মেডিটেশন আর ইয়োগা দিয়ে। দিনের শেষ প্রান্তে থাকে গল্পের আসর যেখানে ক্যান্সার জয়ীরা শেয়ার করেন নিজেদের লড়াই, হার, জয় আর আশার গল্প।
সর্বশেষ পর্তুগাল এবং মরিশাসে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন রেজিনা আহমেদ। যাকে বলা যায় কক্সবাজার ট্রিপের প্রাণ। তার থেকে জানা যায়, মরিশাসে দায়িত্বপালনরত অবস্থায় ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার এবং পরবর্তীতে সাহসের সঙ্গে সন্তান ও পরিবারের সঙ্গে সেই দুঃসহ সময় পার করার গল্প।
ক্যান্সার জয়ী রেজিনা আহমেদ বলেন, ‘আমি প্রায় তিন মাস আইসিইউতে ছিলাম। এবার প্রথম ঢাকার বাহিরে আসতে পেরে অনেক ভালো লাগছে।’
আরও পড়ুন:
তার মতো ব্রেস্ট ক্যান্সার জয় করা সার্ভাইভারদের নিয়ে কক্সবাজারে ব্যতিক্রমী এক আয়োজন করেছে ‘তিশক্যান’ নামের একটি সংগঠন। ‘পিঙ্ক অক্টোবর’ উপলক্ষে ‘স্কাই ইজ পিঙ্ক: এ হিলিং রিট্রিট ফর ব্রেভ হার্টস’ শিরোনামের এ আয়োজনের মুহূর্তগুলো যেন সারিয়েছে মনের ক্ষত। যেখানে এ সার্ভাইভারদের কেয়ারগিভারদেরও নিয়ে আসা হয়, যাতে তাদের ভেতরকার ট্রমাও কাটিয়ে ওঠানো যায়।
অংশগ্রহণকারীরা জানান, তিশক্যানের এ ধরনের উদ্যোগে তারা নতুন করে আশার আলো পেয়েছে। তাদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করছে।
ক্যান্সার শুধু এক রোগ নয়—এটি মানসিক, সামাজিক ও পারিবারিক লড়াইয়েরও নাম। এ রিট্রিটে অংশ নেয়া নারীরা একে অপরের গল্প শুনে খুঁজে নেন নতুন সাহস, পুনরুদ্ধার করেন জীবনের আনন্দ।
তিশক্যানের প্রতিষ্ঠাতা নুজহাত তারান্নুম বলেন, ‘প্রত্যেক মাসেই আমরা কিছু কিছু অ্যাক্টিভিটি করে থাকি যেটি আমাদের মেন্টাল হেল্থকে সাপোর্ট করে থাকে। আমরা চেষ্টা করি কোনো না কোনো অ্যাক্টিভিটির মধ্যে থাকতে যেটি আমাদের ভালো রাখবে।’
‘তিশক্যান’ এর এ উদ্যোগে সহযোগিতা করছে সিটি গ্রুপ, যারা সমাজে সচেতনতা, সহমর্মিতা আর ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিতে সবসময় পাশে থাকে।





