আমদানি-রপ্তানি
অর্থনীতি

চিলাহাটি স্টেশনের ৯৮ শতাংশ কাজ শেষ

উত্তরাঞ্চলের বাণিজ্যের নতুন দুয়ার খুলতে যাচ্ছে চিলাহাটি রেলওয়ে স্টেশনের মাধ্যমে। ১২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে আইকনিক ভবনের পাশাপাশি স্টেশন ইয়ার্ডের কাজ শেষ হলে এখানেই আনলোড করা যাবে ভারত থেকে আসা পণ্য। ফলে স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদেরও খরচ বাঁচবে অনেকাংশে। জুনে শেষ হচ্ছে প্রকল্পের মেয়াদ। রেল বিভাগ বলছে, এরইমধ্যে ৯৫ থেকে ৯৮ শতাংশ কাজ শেষ।

৫৫ বছরের খরা কাটিয়ে ২০২১ সালে আবারও চালু হয় চিলাহাটি হলদিবাড়ি রেলপথ। পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলের মধ্যদিয়ে তখন ভারতের সঙ্গে ব্যবসার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়।

এরপর ২০২২ সালে মিতালী এক্সপ্রেস চালু হলে যাত্রী পরিবহনেও যুক্ত হয় নতুন পালক। শুরু হয় চিলাহাটি স্টেশন ইয়ার্ডের সংস্কার। ম্যাক্স ও ক্যাসল নামে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০১৯ ও ২০২২ সালে রেলওয়ে ইয়ার্ড সংস্কার ও পরিবর্ধনের কাজ শুরু করে।

ভারতের সাথে রেল সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে চিলাহাটি স্টেশন এবং চিলাহাটি বর্ডারের মধ্যে ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১২৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে চিলাহাটি স্টেশনের লাইনের সংখ্যা ১০টিতে উন্নীত করা, প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ, ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ, রেল কোচ পরিষ্কার ও মেরামতের জন্য শেড তৈরি। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে দ্রুত গতিতে কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয়রা বলেন, এই ইয়ার্ডের কাজ শেষ করলে উত্তরের ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি অনেকটাই বেড়ে যাবে। বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি সহজ হয়ে যাবে। এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের একটা সুযোগ তৈরি হবে। এতে এলাকার অনেক উন্নয়ন হবে। জনগণের সুবিধা হবে। তাই দ্রুত এর কাজ শেষ করা হোক।

চিলাহাটি স্টেশন ইয়ার্ড পূর্ণাঙ্গরূপে চালু হলে যাত্রী, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের আনাগোনায় সারাদিন মুখর থাকবে বলে জানান চিলাহাটি রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার রুহুল আমিন।

তিনি বলেন, 'এখানে পাথর আনলোড করা হলে সর্বনিম্ন ২০০ শ্রমিক কাজ করবে। এতে তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এতে আশেপাশের দোকানপাটের ব্যবসা বাড়ার পাশাপাশি সংখ্যাও বাড়বে।'

অন্যদিকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন ইয়ার্ডের কাজ। উন্নীত করা হচ্ছে রেল লাইন। দৈর্ঘ্য বাড়ছে প্রতিটি লুপ লাইনের। এর ফলে পাথরসহ অন্য মালামাল আনলোডিংয়ে প্রচুর সময় বাঁচবে।

রেলওয়ের উন্নয়নের ফলে ব্যবসায়িক হাব সৈয়দপুরসহ চিলাহাটি তথা উত্তরের ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যবসার দুয়ার প্রশস্ত হবে বলে জানান নীলফামারী জেলা প্রশাসক পঙ্কজ ঘোষ।

তিনি বলেন, 'জুনে কাজ শেষ হলে ভারত থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রেনগুলো এখানে পণ্য খালাস করবে। আমরাও পণ্য রপ্তানি করতে পারবো। সব মিলিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে একটা বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছি।'

সমস্ত ঝুট ঝামেলা শেষ করে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে চিলাহাটি রেলওয়ে স্টেশন ইয়ার্ডের কাজ। একে একে এখানে বসবে ১০টি লাইন। যাতে পণ্য লোড-আনলোড আরও সহজতর হবে। ভারত থেকে পণ্য আমদানি ছাড়াও রপ্তানিতে ভূমিকা রাখবে এ স্টেশন ইয়ার্ড।

এভিএস

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর