দেশে এখন
বরগুনায় জেলেদের চাল বিতরণে অনিয়ম
মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিতরণ করা হয় চাল। তবে সব সময় সঠিক পরিমাণে চাল জেলেদের কাছে পৌঁছায় না। বরগুনা সদরের ৭ নং ইউনিয়ন পরিষদে ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ। চাল বিতরণে দুর্নীতির অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থার নেয়ার কথা জানান ইউএনও।

বরগুনা সদরের ঢলুয়া ইউনিয়নের চরকগাছিয়া গ্রামের জেলে সাইফুল ইসলাম এসেছিলেন চাল নিতে। ৪০ কেজি চাল পাওয়ার কথা থাকলেও তিনি পেয়েছেন ৩৮ কেজি ৫০০ গ্রাম। বেশিরভাগ জেলেই প্রতি বস্তায় ১ থেকে ২ কেজি পর্যন্ত চাল কম পাচ্ছেন। অনেকে ৩৬ কেজি ৫০০ গ্রাম চালের বস্তা পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সাইফুল ইসলাম বলেন, 'আমারে চাল দেওয়ার কথা ৪০ কেজি। কিন্তু ওই জায়গাতেই মেপে দেখি সাড়ে ৩৮ কেজি।'

চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতেও পরিমাণের হিসাবে গড়মিল রয়েছে। আর গণমাধ্যমকর্মীর উপস্থিতি টের পেলেই চলে চাল বাড়িয়ে দেয়ার কারসাজি।

এক জেলে বলেন, চাল দেয়ার কথা ৪০ কেজি। মিটারে মাপলে ৩৫-৩৬ কেজির বেশি হয় না।

এর আগেও এ ইউনিয়নের চাল বিতরণ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরে এখন টেলিভিশন। তবে কিছুতেই থামছে না এ অনিয়ম। ইউপি চেয়ারম্যান গুদাম থেকে চাল কম দেয়ার কথা বললেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন চালে ঘাটতি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

ঢলুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুল হক স্বপন বলেন, প্রত্যেকটা বস্তাই ডিজিটাল পাল্লায় পরিমাপ করা সম্ভব। মাপতে গিয়ে হয়তো কোনটায় একটু কমবেশি হতে পারে। এতবেশি কমবেশি হয়নি।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম মিঞা বলেন, 'অনেক ক্ষেত্রে ২০০ বা ৫০০ গ্রাম কমবেশি হতে পারে। তবে ১ থেকে ২ কেজি কম হলে তা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য না।'

এ ইউনিয়নে নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন ১ হাজার ৭১৯ জন। তবে এই পর্যায়ে ৫৯ টন চাল পাচ্ছেন ১ হাজার ৪৮০ জন জেলে।

এভিএস