দেশে এখন
নড়াইলে আশানুরূপ কাজ না পেয়ে হতাশ দর্জিরা
গার্মেন্টসের তৈরি পোশাকের প্রতি চাহিদা ও জোগান বাড়ায় সংকটে দর্জি বাড়ি। নেই উৎসবের ছোঁয়া, কাজ না থাকায় কষ্টে জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের। কেউ কেউ বদলে ফেলেছেন নিজের পেশা।

গেল ৩৫ বছর ধরে দর্জির কাজ করেন সাগর বোস। বয়স সত্তরের কোটা পার হয়েছে আরও বছর চারেক আগেই।

নড়াইলের রূপগঞ্জ বাজারের পৌর সুপার মার্কেটের নিচতলায় তার কর্মযজ্ঞ। যার ওপর নির্ভর করে তার জীবন-সংসার-জীবিকা। তবে কাজ কমেছে আগের তুলনায়। উপার্জন কমায় নানা সংকটে দিন কাটছে তার।

কাজ না পেয়ে বসে বসে সময় পার করছেন দর্জি সাগর বোস। ছবি: এখন টিভি

সাগর বলেন, 'দুই বছর আগেও রোজার আগেই কাজ শুরু হতো। এবার রোজা প্রায় শেষের পথে তাও কোনোরকম কাজ নেই। এভাবে জীবনযাপন করা কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।'

তবে শুধু সাগর বোস নন, দর্জিপাড়ার অন্যদের গল্পটাও এমনই। ঈদ-পূজাসহ বিভিন্ন উৎসব ঘিরে আগে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য থাকলেও এখন চিত্র মলিন হয়েছে। কারিগররা বলছেন, আধুনিকতার ছোঁয়া ও পোশাক শিল্পের প্রসারে কমছে ভিড়। কাজ না থাকায় অনেকেই বদলেছেন পেশা।

একজন দর্জি বলেন, 'আমরা যারা আগে থেকে কাজ করি তারাই শুধু এটা করছি। নতুন করে এখন কেউ দর্জির কাজ শিখতে আসছে না। আগে আরও অনেক দর্জি ছিল সবাই এখন কৃষি কাজে চলে গেছে। গার্মেন্টস হওয়াতে এদিকে প্রভাব পড়েছে।'

পোশাকের ক্রেতারা বলছেন, কাপড় কিনে দর্জির কাছে তৈরিতে গুনতে হয় বাড়তি টাকা। কিন্তু এরচেয়ে কম দামে চাহিদামতো পোশাক মিলছে বিভিন্ন বিপণিবিতানে।

একজন ক্রেতা বলেন, 'বানাতে গেলে খরচ বেশি হয়। একই ডিজাইনের কাপড় বানাতে হয় আমরা দোকানে এসে ঘুরে ঘুরে নিত্যনতুন ডিজাইনের কাপড় আমরা অনেক কমদামে কিনতে পারছি। সেহেতু আমরা সাধ্যের মধ্যে কাপড় কিনতে পারছি, সেজন্য দিন দিন বানানো কাপড় থেকে রেডিমেট কাপড়ের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।'

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প-বিসিকের পক্ষ থেকে দর্জি কারিগরদের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে জানান সংস্থাটির কর্তারা। একইসঙ্গে এই পেশাকে টিকিয়ে রাখতে জেলাপ্রশাসনের পক্ষ থেকে মেলাসহ বিভিন্ন আয়োজনের কথাও জানান তারা।

নড়াইল বিসিকের উপ-ব্যবস্থাপক ইঞ্জিনিয়ার মো. সোলাইমান হোসেন বলেন, 'জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে আয়োজিত মেলায় আমরা স্টল বরাদ্দ করে থাকি। তাদের এ শিল্প যেন তারা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে সেজন্য। তাদের সাহায্য করার এ ধারা আমাদের পক্ষ থেকে অব্যাহত থাকবে।'

একসময় নড়াইলের তিন উপজেলায় অন্তত ১৫ হাজার দর্জি ও কারিগর ছিলেন। ক্রেতা চাহিদার পরিবর্তনে জেলায় এখন টিকে আছেন ১ হাজার ২০০-র মতো দর্জি ও কারিগর।

এমএসআরএস