দেশে এখন
শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির ৫৪ বছর
স্বাধীনতার ৫৪তম বছরে পা দিলো বাংলাদেশ। শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তি পেতে ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তির সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়ে আপামর জনতা। বঞ্চনা থেকে মানুষের কর্মসংস্থানসহ দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে এসেছে প্রশান্তি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উন্নত বাংলাদেশ গড়তে জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করার কোন বিকল্প নেই।

১৯৭১ সালের আজকের (২৬ মার্চ) দিনে এই দেশের মানুষ তাদের ভাত ও কাপড়ের স্বাধীনতা আদায়ে ঝাপিয়ে পড়ে সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে লড়তে। ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ আর ২৫মার্চ রাতের গণহত্যা বাঙালির দাবি আদায়ের আগুনে ঘি ঢালে। ভোর রাতে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ভেসে আসা বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দীর্ঘ ৯ মাসের যাত্রা শুরু হয়। যে যাত্রায় ছিল ৩০ লক্ষ মানুষের রক্ত, ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রম আর সেই সাথে দেশের সম্পদ ধ্বংসের লীলাখেলা।

যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ঘাটলে মেলে অধিকার না পাওয়া, চাকরি ক্ষেত্রে বৈষম্য, সমাজ গঠনে অবহেলাসহ সর্বত্র পশ্চিম পাকিস্তানিদের চোখের বাইরে থাকা। একটা সমাজ বা জাতি গঠনে যে মৌলিক অধিকার প্রাপ্তিতা তাতে সংকট।

স্বাধীনতার ৫৪ বছরে পা ফেলে বাংলাদেশ আজ কর্মের জায়গায় কতটা স্বয়ংসম্পূর্ণ? অবকাঠামোগত উন্নয়নটাই বা কেমন?

যুদ্ধের কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে এ দেশের পথ চলাতে যে বড় বাঁধা ছিল তা ছিল যুদ্ধের প্রভাবে ধ্বংস রাস্তা-ঘাট , শিল্পকারখানা, দারিদ্র্য আর বেকারত্ব। যা উতরানো ছিল কঠিন চ্যালেঞ্জ।

মুক্তিযোদ্ধা ও সিনিয়র সাংবাদিক অজয় দাসগুপ্ত বলেন, '৭ কোটি মানুষকে দাবায় রাখতে পারবা না। সেটা ছিল রাজনৈতিকভাবে ও সামরিকভাবে। কিন্তু সম্ভাবনাটা তখনই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বার বার বলেছেন। বাংলার সবচেয়ে বড় সম্পদ হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ। কষ্ট সহ্য করেছে এই বাংলার মানুষ আর ভালো থাকার জন্য ভালোটা অন্য কেউ করে দিবে না নিজেকেই করে নিতে হবে। সেসময় সব কিছুতে ঘাটতি ছিল।'

যে বাংলাদেশের ছিল ৮৮ শতাংশ বিদেশী নির্ভরতা, যা আজ ১০ শতাংশে। শিক্ষার হার ছিল ২০ শতাংশের নিচে যা বেকারত্ব হার বাড়ানোর একটি পথ। সেই পথ পেরিয়ে বাংলাদেশ আজ বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম যোদ্ধা হয়ে উঠছে। কৃষি নির্ভর বাংলাদেশ থেকে শিল্পে অগ্রসরতা বেকারত্বকে করছে দূর। যা মাথাপিছু ডলার ১২৯ থেকে ২০৭৯ তে পৌছানো দেখেই ধারণা করা যায়। করোনা মহামারী পরবর্তী সংকট কাটিয়ে কাজের সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি ব্যবধান বেড়েছে আয় বৈষম্যে। চ্যালেঞ্জ রয়েছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে।

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, 'এখন বৈশ্বিক যে চাহিদা সেই প্রেক্ষাপটে আমাদের দক্ষতার চাহিদার যে ক্ষেত্র রয়েছে আমরা কি সেই চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম জনগোষ্ঠী তৈরি করতে পারছি কিনা। প্রয়োজনীয় জাগয়াতে আমরা স্কিল বাড়িয়ে অনেক শক্তিশালী করতে পারি।  এই লক্ষ্যে বর্তমান সরকার স্কিলস কমিশন করেছে। ন্যাশনাল স্কিল অথোরিটি করেছে। সেই জায়গাগুলোকে কিভাবে আরও ভালো জায়গায় নেওয়া যায় সেখানে নজর দিলে  আমাদের স্বাধীনতার স্বপ্ন এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নগুলো পূরণ হবে।'

সাড়ে ৭ কোটি জনসংখ্যা নিয়ে নতুন দেশের যাত্রা ছিল যেখানে কঠিন সেই ভূমিতেই ১৮ কোটি মানুষ আজ জীবিকা নির্বাহ করে চলছে। দেশের তরুণরা শুধু চাকরির বাজারে না থেকে নিজেরাই হচ্ছেন উদ্যোক্তা। অবদান রাখছেন দেশের সামগ্রিক আয়ে। আর বিশেষজ্ঞদের মত দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়ে আরও বেশি মনোযোগী হলে জনসংখ্যা শব্দকে জনশক্তি হিসেবে বলায় কোন অসংগতি থাকবে না।

অজয় দাসগুপ্ত আরও বলেন, 'বাংলাদেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ব্যাপক কিন্তু এইটা সর্বনাশ ঘটাতে পারে যদি এইটাকে কাজে না লাগনো যায়।'

ড. মো. শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, 'আমরা বলতে পারি যে বাংলাদেশ পৃথিবীর উন্নত দেশের উন্নতির ইতিহাস পর্যালোচনা করি তাদের যেভাবে পরিবর্তন ঘটেছে যে কৃষি ধীরে ধীরে কমে যাওয়া। শিল্প এবং সেবাকে উপরের দিকে নেওয়া। সেই জায়গার দিকেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে।'

জনসংখ্যার দক্ষতার বৃদ্ধিতে আরেক অনুষঙ্গ অবকাঠামো । যা গত ১৬ বছরে পরিবর্তিত হয়েছে অভূতভাবে। যুদ্ধ বিধ্বস্ত হাডিঞ্জ ব্রীজ মেরামতে যেখানে সাহায্য ছিল বিদেশী রাষ্ট্রের সেই বাংলাদেশ আজ নিজ টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণ করে তাক লাগিয়েছে বিশ্বকে। রাস্তা-ঘাট সহ সকল ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ।

ইএ