বিদেশে এখন
নির্বাচন করার মতো অর্থ নেই ট্রাম্পের কাছে!
নির্বাচন করার মতো হাতে অর্থ নেই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। প্রায় শ' খানেক মামলায় পিষ্ট হয়ে আর্থিকভাবেও ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি। এরই মধ্যে জালিয়াতির মামলায় সোমবারের মধ্যে প্রায় ৪৬ কোটি ডলার জমা দিতে হবে ট্রাম্পকে। তা না হলে জব্দ হতে পারে তার বিশাল সম্পত্তি।

রিপাবলিকান দলের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তোলে নিয়েও সুবিধা করতে পারছেন না ট্রাম্প। গত নির্বাচনের পর থেকেই নানা কারণে আলোচনা আছেন তিনি। এরমধ্যে নারী কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে আর্থিক জালিয়াতি সবকিছুতে নাম এসেছে ট্রাম্পের। তারপরও রিপাবলিকানদের কাছে তার জনসমর্থন কমেনি একবিন্দু। দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

তবে বিপদ যেন পিছু ছাড়ছে না ট্রাম্পের। রাজনীতিতে দলের এবং সমর্থকদের সহযোগিতা পেলেও আইনি পথে বার বার বাধার মুখে পড়ছেন তিনি। এবার নির্বাচনী প্রচারের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন মার্কিন এ ধনকুবের। তার ওপর ঝুলছে বেশ কয়েকটি মামলা। এসব মামলা চালাতে এবং জরিমানার বিশাল অর্থ পরিশোধ করতে গিয়ে হুমকির মুখে পড়েছে তার ব্যবসা ও সম্পত্তি।

ট্রাম্প, তার প্রতিষ্ঠান এবং ছেলেদের সম্পদের বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণার চেষ্টা করেছেন। নিজের সম্পদের মূল্য নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে নিউইয়র্কের একটি আদালত ট্রাম্পকে প্রায় সাড়ে ৩৫ কোটি ডলার জরিমানা করে। যা সুদে-আসলে প্রায় ৪৬ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। মোটা অংকের এ জরিমানা ২৫ মার্চের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। কোন ব্যাংক ও বীমা কোম্পানিও তার পাশে দাঁড়াতে রাজি হচ্ছে না।

নির্ধারিত সময়ে এ অর্থ পরিশোধ করতে না পারলে জব্দ করা হতে পারে তার ব্যাংক হিসাব ও সম্পত্তির বিশাল একটি অংশ। টাকা সংগ্রহে মরিয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায় ৩০টি বীমা ও বন্ড কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করেও ফল পাননি। নিজের সম্পত্তি বন্ধক রেখে অর্থ ধার নেয়ার ঝুঁকি নিতে রাজি নন ট্রাম্প। এখন সম্পত্তি বিক্রি করা ছাড়া তার আর কোন উপায় থাকবে না।

অর্থ জমা দেয়ার সময় বাড়াতে একমাত্র নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল বা অন্য আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তবে ট্রাম্প নিজেই আদালতের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন। গত মাসে ১০ কোটি ডলার বন্ড জমা দিয়ে আপিল করেও রেহাই মেলেনি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, 'মিথ্যা ও ভুয়া মামলা দিয়ে কারচুপি করে বিচারের রায় দিয়েছে আদালত। নগদ অর্থ ও বিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্পদ জব্দ করতে চায় তারা। যাতে নির্বাচনী প্রচারে এসব অর্থ রিপাবলিকানরা ব্যবহার করতে না পারে। আমি এসবের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাব।'

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আরও ৯১টি মামলা ঝুলছে তারপরও দমে যেতে রাজি নন তিনি। তার অভিযোগ, আসন্ন নির্বাচনে তার জয় ঠেকাতে এসব মামলা দেয়া হচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা তার বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করে চলেছে।

এভিএস