গ্রামীণ কৃষি
কৃষি
তিন কিলোমিটারের বাঁধই যে অঞ্চলকে পাল্টিয়ে দিয়েছে
পিরোজপুরে স্থানীয়রা মিলে তৈরি করেছেন ৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ। এতে বদলে গেছে স্থানীয় অর্থনীতির দৃশ্যপট। ৪০ বছরের অনাবাদি ৫০০ বিঘা জমি এসেছে চাষের আওতায়।

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে প্রত্যন্ত গ্রাম দেউলবাড়ী। যেখানে মাঠের পর মাঠ ধরে চলছে ধানের আবাদ। ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। স্বপ্ন বুনছেন বোরো ধানের ফলন ঘরে তোলার।

তবে এ স্বপ্ন ৫ বছর আগেও ছিল অধরা। যে জমিতে দিনরাত এক করে পরিশ্রম করছেন কৃষকরা, সেই জমি ছিল বিল অঞ্চল। পানিতে তলিয়ে থাকতো সারাবছর। ৩০ থেকে ৪০ বছর অনাবাদি থাকা জমি এখন হেসে উঠেছে ফসলে।

স্থানীয় চাষিরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে মাত্র সাড়ে ৩ কিলোমিটার একটি বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি ছিল তাদের। তবে বছরের পর বছর পার হলেও সে দাবি বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। এরপর স্থানীয়রা নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করেন ৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ। স্বেচ্ছাশ্রমে এগিয়ে আসে কিশোর, যুবক,বৃদ্ধসহ গ্রামের সবাই। এভাবেই তৈরি হয় বাঁধ। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ার পাশাপাশি অনাবাদি জমি এসেছে চাষের আওতায়।

স্থানীয়রা বলেন, এলাকার যুব সমাজের উদ্যোগে এ প্রকল্পটা আমরা হাতে নেই। আগে কোন ধান হইতো না, এখন এই বাঁধের কারণে ধান হইতেছে। ৩ থেকে ৪ বছর যাবত এলাকার কৃষি খুব ভালো। ধানের পর এখানে মাছ চাষ করি।

জেলায় মোট আবাদি কৃষি জমি রয়েছে ৮৯ হাজার ৩৪৫ হেক্টর। এরমধ্যে গত দুই বছরে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর অনাবাদী জমি এসেছে চাষের আওতায় বলে জানান জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম সিকদার। বলেন, 'গাউখালী একটা উদাহরণ হয়ে থাকবে। পাশাপাশি অন্যান্য এলাকার কৃষকরাও যদি স্বপ্রণোদিত হয়ে এ কাজ করে তাহলে অদূর ভবিষ্যতে জেলায় এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদী থাকবে না।'

নাজিরপুর উপজেলার এই ৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বানাতে খরচ হয়েছে ৬৫ লাখ টাকা।

এভিএস