বাজার
দেশে এখন
কেজিতে ২/৩ টাকা দাম বেড়েছে সবধরনের চালে
সপ্তাহ ব্যবধানে খুচরা পর্যায়ে কেজিপ্রতি ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে সবধরণের চালের দাম। পাইকারিতে যা ১০০ থেকে ১৫০ টাকা।

রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দরদামে চলছে একে অন্যকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা। ক্রেতাকে নিত্য চাপে রাখার এই প্রতিযোগিতার দৌঁড়ে এবার নাম লেখালো চালের বাজার। বাজার অর্থনীতির সূত্রে, চাহিদা বাড়লে অনেকক্ষেত্রে পণ্যের দাম বেড়ে যায়। কিন্তু নিয়মকে অনিয়মে পরিণত করে চাহিদা কম থাকার মধ্যেই বাড়লো সব ধরনের চালের দাম। এমন বাজার পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা চরমে ও বেশ বিরক্ত ভোক্তা।

রোজায় চালের দাম বাড়ার অপ্রিয় ঐতিহ্য না থাকলেও এবার তাই ঘটলো। বিক্রেতারা বলছেন, গেল ১৫ বছরের রমজানে এবারই বাড়ল চালের দাম। গেল জানুয়ারিতে দাম বাড়লেও সেবার সরকারের নানা উদ্যোগে তা কিছুটা কমলেও ফের কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে চাল।

পাইকারিতে বস্তাপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেড়েছে প্রতিটি চালে। এছাড়া খুচরাতে কেজিপ্রতি মোটা চাল ৫০ থেকে ৫৩, বি-আর ২৮ চাল ৫৩ থেকে ৫৫, পাইজাম ৫৩ থেকে ৫৬, সাধারণ মানের নাজিরশাইল ৬৭ থেকে ৭০, ভালো মানের নাজিরশাইল ৭৩ থেকে ৭৬, মিনিকেট ৬২ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে কিছু সরু চাল অবশ্য আরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারদের থেকে বেশি দামে কিনছেন তারা। এসময় বিক্রি কম থাকায় নতুন করে আর চাল না কেনার কথাও জানান অনেক দোকানি।

খুচরা বাজার ঘুরে এবার গন্তব্য রাজধানীর বড় পাইকার চালের আড়ৎ বাবুবাজার। পরিস্থিতি বিবেচনায় পাইকারি আড়ৎদাররা জানালেন মৌসুম শেষ হওয়ায় চালের দাম বাড়তি। তবে ধানের সরবরাহের সাথে তা কমার সম্ভাবনা আছে। এদিকে শুধু সরবরাহ নয়, বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ অনেকের।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, নতুন করে আর চালের দাম বাড়ার শঙ্কা নেই। আগামী বৈশাখ-জৈষ্ঠ্য মৌসুমে নতুন ইরি-বোরো ধান উঠলেই চালের দাম আবার স্থিতিশীল হবে। তবে এখন থেকে যদি দাম নিয়ন্ত্রণে তদারকি না হয়, তাহলে ঈদের পর চালের বাজার লাগামহীন হওয়ার শঙ্কা এড়ানো যাচ্ছে না।

এমএসআরএস