পরিবেশ ও জলবায়ু , মধ্যপ্রাচ্য
বিদেশে এখন
কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোটায় নামাবে আমিরাত
২০৫০ সাল নাগাদ কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনবে আমিরাত। এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কাজ করছে লুটাহ বায়োফুয়েল। দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি প্রতিমাসে সংগ্রহ করে ৫ লাখ লিটার পোড়া ভোজ্যতেল। যা পরবর্তীতে বায়োফুয়েল হিসেবে ব্যবহার হয় পরিবহনের জ্বালানি হিসেবে।

টেকসই পরিবহনখাত গড়তে ১৪ বছর ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কাজ করছে লুটাহ বায়োফুয়েল নামের একটি প্রতিষ্ঠান। দুবাইভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে অসংখ্য বায়োফুয়েল প্ল্যান্ট। মূলত বাসাবাড়ি এমনকি বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনা থেকে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদিন পোড়া ভোজ্যতেল সংগ্রহ করে। গেল বছর সংগ্রহ করা তেল থেকে উৎপন্ন করা হচ্ছে ৭শ' টনের বেশি বায়োফুয়েল।

লুটাহ বায়োফুয়েলের সিইও ইউসুফ বিন সাইল আল লুটাহ বলেন, 'বায়োফুয়েলের মিশ্রণ খুবই সোজা। মূলত তেলের সঙ্গে মিথানল এবং পটাসিয়াম হাইড্রোঅক্সাইড বা সোডিয়াম হাইড্রোঅক্সাইডের যুক্ত করা হয়।'

বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড বাড়ার অন্যতম কারণ শিল্পোন্নত দেশগুলোর মাত্রাতিরিক্ত তেল-গ্যাস-কয়লার ব্যবহার। তবে জ্বালানি তেলের পরিবর্তে বায়োফুয়েল ব্যবহারে কার্বন নিঃসরণ কমতে পারে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত। তাই পরিবেশ রক্ষায় পশ্চিমাদের মতো আমিরাতের ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের সাথে প্রক্রিয়াজাত করা পোড়া তেলের মিশ্রণ বাধ্যতামূলক করার দাবি প্রতিষ্ঠানটির।

ইউসুফ বিন সাইল আল লুটাহ আরও বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইউরোপের দেশগুলোতে ফিলিং স্টেশনে বাধ্যতামূলকভাবে জ্বালানি তেলের সঙ্গে প্রক্রিয়াজাত তেলের মিশ্রণ করা হয়। আমরাও জনসাধারণের জন্য সেটি চাই।'

তবে শুধু পরিবহন খাতেই নয়, সামুদ্রিক জাহাজেও বায়োফুয়েলের ব্যাপক সম্ভাবনা আছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক পল হেলিয়ার বলেন, 'মেরিন শিল্পে বায়োফুয়েলের ব্যাপক সম্ভাবনা আছে। কারণ জাহাজের ইঞ্জিনগুলো শক্তিশালী। পাশাপাশি এই ইঞ্জিনগুলো বিভিন্ন মানের জ্বালানি ব্যবহার করতে সক্ষম।'

২০২৩ সালে জাতীয় শক্তি কৌশল প্রণয়ন করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। যাতে বলা হয় ২০৫০ সাল নাগাদ কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনতে চায় দেশটি। লুটাহ বায়োফুয়েলের আশা, লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বড় অবদান রাখবে প্রতিষ্ঠানটি।

এভিএস