পুঁজিবাজার
অর্থনীতি
ফ্লোর প্রাইসের কারণে ৮০% ব্রোকারেজ তুলতে পারছে না পরিচালন ব্যয়
ফ্লোর প্রাইসের কারণে গত দেড় বছরে দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেন ব্যাপক হারে কমে গেছে। এতে প্রায় ৮০ শতাংশ ব্রোকারেজ হাউজ তাদের পরিচালন ব্যয় তুলতে পারছে না।

ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) এবং ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের (সিএমজেএফ) সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর নিকুঞ্জের ডিএসই টাওয়ারে উভয় সংগঠনের নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের মধ্যে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

তবে, বৃহস্পতিবার ৩৫টি কোম্পানি ছাড়া বাকি সব শেয়ারে ফ্লোর প্রাইস তুলে নিয়েছে বিএসইসি।

সভায় ডিবিএ'র প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, 'ফ্লোর প্রাইস বেঁধে দেওয়ায় গত দেড় বছরে দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেন ব্যাপক হারে কমে গেছে। এতে প্রায় ৮০ শতাংশ ব্রোকারেজ হাউজ তাদের পরিচালন ব্যয় তুলতে পারছে না। বিগত দেড় বছরে আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত।'

সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, 'আমাদের ডিমিউচুয়ালাইজেশন (স্টক এক্সচেঞ্জ মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা পৃথকীকরণ) হয়েছে ২০১৩ সালে। ডিমিউচুয়ালাইজেশনের কারণে আমাদের ক্ষতি হয়েছে, তারপরও আমরা মেনে নিয়েছি। ১০ বছর পর এটা এখন রিভিউ করার সময় এসেছে। বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নতির সঙ্গে যদি তুলনা করি পুরো ইকোনমি এগিয়ে যাচ্ছে একভাবে, আর আমরা অন্যভাবে যাচ্ছি।'

ডিবিএ’র সাবেক সভাপতি ও গ্লোবাল সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিচার্ড ডি রোজারিও বলেন, 'আমাদের যে তিনটি ব্রোকারেজ হাউজের কথা বলা হয়েছে, এই তিনটি হাউজের এই অবস্থার জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং ডিএসই’র দায় আছে। আমরা দেখতে পেরেছি শুরুতে হাউজগুলোর সমস্যা কিছু খুবই কম। ধীরে ধীরে সমস্যা বড় হয়েছে। অসহযোগিতার কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ফ্লোর প্রাইসের মতো জঘন্ন ঘটনা আবার বিপদে ফেলেছে। স্বল্প সময়ের জন্য এটা মেনে নেয়া যায়, কিন্তু এতো দীর্ঘ সময়ের জন্য এটা গ্রহণযোগ্য না।'

ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. এটিএম তারিকুজ্জামান বলেন, 'শেয়ারবাজারের আইন-কানুনগুলো মার্কেট ফ্রেন্ডলি হতে হবে। বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি এবং আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী ও মহাব্যবস্থাপক মাজেদা খাতুন বলেন, আমি বিএমবিএ’র নতুন সভাপতি হয়েছি। আশাকরি নতুন বছরে আর্থিক খাতে ভালো হবে।'

ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, 'আমরা চাচ্ছি একটা ভালো শেয়ার মার্কেট। শেয়ার মার্কেট ভালো হলে শিল্পায়নের সহযোগী হবে। মানুষের কর্মসংস্থান বাড়বে। পুঁজিবাজারে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়বে। আমাদের প্রতিবেশি দেশ ভারতে আমরা দেখতে পরি ব্যাপক মানুষ শেয়ারবাজারে। আমরা চাই আমাদের শেয়ারবাজারেও ব্যাপক মানুষের অংশগ্রহণ হোক।'

ডিএসইর সাবেক পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, 'ব্রোকারেজ হাউজগুলোর ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কর্মী চলে গেছে। বড় হাউজগুলো কোনো রকমে টিকে আছে। ছোট হাউজগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। আমাদের তিনটি হাউস সমস্যায় পড়ে যাওয়ার তথ্য আপনারা পেয়েছেন। আমাদের সহযোগীতা করেন আমরা আপনাদের একটি ভালো বাজার উপহার দিতে পারবো।'

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সাবেক প্রেসিডেন্ট মো. ছায়েদুর রহমান বলেন, 'বাজারে ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত না হলে বাজারের উন্নতি সম্ভব না। অন্যদিকে তালিকাভুক্ত অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হার সাড়ে ৭ শতাংশ এটা খুবই কম। কর হার বাড়ানোটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, আমরা সব সময় এই বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে আসছি কিন্তু কার্যকরী পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। সুতরাং ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত করতে হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।'

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি মাজেদা খাতুন বলেন, 'পুঁজিবাজারের সার্বিক সহযোগিতায় আমরা সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করি। সবাই মিলে দেশের শেয়ারবাজারের উন্নয়নে একসাথে কাজ করবো। সবাই যার যার জায়গা থেকে এগিয়ে আসলে শেয়ারবাজারের উন্নয়ন হবে বলে আশা করছি।'

এদিকে সভায় সিএমজেএফ’র সভাপতি এস এম গোলাম সামদানী ভুঁইয়া বলেন, 'বাংলাদেশের অর্থনীতি যেভাবে এগিয়ে গেছে সেভাবে পুঁজিবাজার উন্নতি হয়নি। যখন দেশের অর্থনীতি ভালো ছিল তখন যেমন পুঁজিবাজার খারাপ ছিল বর্তমানে অর্থনীতি কিছুটা মন্দা, এখনও শেয়ারবাজার খারাপই রয়েছে। সঠিক সময় শেয়ার ক্রয় বিক্রয় করতে না পারায় অনেকের পুঁজি আটকে পড়েছে। এমন পরিস্থিতি থেকে বিনিয়োগকারিরা পরিত্রাণ চায়। সবার প্রত্যাশা বাজারের লেনদেন স্বাভাবিক গতিতে চলুক। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণের লক্ষ্যে ডিএসই ও সিএমজেএফ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসঙ্গে কাজ করবে।'

সিএমজেএফ'র সেক্রেটারি আবু আলী বলেন, 'সিএমজিএফ পুঁজিবাজারের উন্নয়ন এবং সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে আমরা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে থাকি।'

এসএসএস