দেশে এখন , গ্রামীণ কৃষি
কৃষি

ভোলায় নোনাপানিতে গবাদিপশু পালন ও কৃষিকাজ ব্যাহত

ভোলার উপকূলীয় এলাকায় নোনাপানি বেড়ে যাওয়ায় মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে গবাদিপশু পালন ও কৃষিকাজ। ঈদের আগমুহূর্তে গবাদিপশুর নানা রোগবালাইয়ে লোকসানের আশঙ্কা করছেন খামারিরা। প্রাণিসম্পদ বিভাগ বলছে, নানা পরামর্শ দিয়ে খামারিদের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

ভোলার সাগরকূলের মনপুরা উপজেলায় গবাদিপশুর খাবারের জন্য নেই নির্দিষ্ট কোনো চারণভূমি। এই মৌসুমে খাবারের জন্য নেই মিষ্টি পানির ব্যবস্থাও। জেগে উঠা নতুন চরগুলো গবাদিপশুর খাবারের একমাত্র ভরসা।

সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় মনপুরার ৫ ইউনিয়ন। লোকালয়ে নোনাপানি প্রবেশের ফলে নষ্ট হয় পুকুরসহ গবাদিপশুর মিষ্টি পানির নানা উৎস। নোনা পানিতে ডুবে থাকা ঘাস খেয়ে গবাদিপশু ডায়রিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

এক খামারি বলেন, 'গরুর খাবারের দাম অনেক বাড়তি। দেড় লাখ টাকার গরু এখন ৭০ হাজার টাকাও বিক্রি করতে পারবো না। ঘাস পর্যন্ত লবণে ভরে গেছে। গরুর ওজন অনেক কমে গেছে।'

শুধু গবাদিপশু নয়; এক সময় বছরে যে জমিতে তিনটি ফসল পেত কৃষক, সেখানে এখন পাচ্ছে মাত্র একটি। শুধু বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি পেলে এসব জমিতে আমন ধান চাষ করতে পারেন তারা। শুষ্ক মৌসুমে এসব জমি উর্বরতা শক্তি হারিয়ে ফেলছে। একই চিত্র ঢালচর, চর নিজাম, কলাতলী ও তজুমউদ্দিনের চরাঞ্চলগুলোতেও।

মনপুরা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. ইমাম হাসান বলেন, 'ঘাস সংকটের কারণে উৎপাদন কমার পাশাপাশি খামারিদের চিকিৎসা খরচ বেড়েছে। এতে কাঙ্ক্ষিত আয়ের পরিবর্তে তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।'

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম খান বলেন, আমরা খামারিদের নানা পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছি। নোনা পানির কারণেই এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে। বনবিভাগ ও প্রশাসনের সাথে আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধান করা হবে।

জেলায় অর্ধশতাধিক চরে প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার মহিষ, ৩ লাখ ৯২ হাজার গরু ও ১ লাখ ৮৮ হাজার ছাগল রয়েছে।

এভিএস

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর