কাহারওলের দশমাইল হাট উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় কলার পাইকারি বাজার। প্রতিদিন ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। বাজারের প্রায় ৯০ শতাংশই সাগর কলা। তবে কম দামের কারণে উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেন না অনেক চাষি।
চাষিদের মধ্যে একজন বলেন, ‘মোটামুটি ৯০০ গাছ। ৯০০ গাছের মোটামুটি ধরেন সাড়ে চার থেকে পৌনে পাঁচ লাখ টাকা খরচ। এক একটা ঘাউর পরে দেখা যায় ১৫০-২০০ টাকা খরচ। আর বিক্রি হয় যদি ১০০ টাকা পিস, তাহলে লস হয় না কৃষকের?’
অন্য একজন বলেন, ‘৫০০-র মাল এখন ৩০০ টাকা। আর ৩০০-র মাল এখন ১৫০ টাকা। আমরা কৃষকরা বাঁচমু? আবার একটা ডগার দাম ৮০ টাকা, ৯০ টাকা পরে।’
কৃষকদের অভিযোগ, সার, চারা ও শ্রমিকের খরচ বাড়লেও বাড়েনি কলার দাম। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে পরিবহন ব্যয়।
আরও পড়ুন:
ব্যবসায়ীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো গাড়ি পাই নাই। বীরগঞ্জের দিকে একটু চেষ্টা করলাম ঠাকুরগাঁও। গাড়ি ছোট গাড়ি কোনোরকম না। সবচেয়ে বড় হইলো মাল কিনে রাখছি, কলা কিনে রাখছি মানে ঢাকার উদ্দেশ্যে। কোনো গাড়ি পাইতেছি না।’
এদিকে চার দশকের পুরনো দশমাইল হাটে রয়েছে অবকাঠামোগত সংকট। প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবি হাটের ইজারাদার ও ব্যবসায়ীদের।
ব্যবসায়ীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘এই হাটটা অনেক টাকার ডাক হয়। এবং এখানে বেচাকেনা কলার বেচাকেনাও অনেক ভালো।’
ইজারাদারদের মধ্যে একজন বলেন, ‘এক কোটির ওপর কলা কেনাবেচা হয়। এখানে সারা দিনে বাগান তো লোড হয় এই ৬০-৭০টা। এই হাটে লোড হয় ২০-২২টা।’
কৃষি বিভাগ বলছে, গত কয়েক বছর ভালো দাম পাওয়ায় এবার কলা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। তবে উৎপাদন খরচ ও বাজারদরের এই ব্যবধান চাষিদের জন্য তৈরি করেছে নতুন সংকট।
দিনাজপুর উদ্যান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘গতবার কলার দাম চাষিরা খুব ভালো পেয়েছিলেন। আশা করছি যে এবারও গতবারের মতোই চাষিরা দাম পাবে। তবে এই মুহূর্তে কলার দাম গতবারের তুলনায়, গতবারের এই সময়ের তুলনায় একটু কম আছে।’
ভোক্তা কম দামে কলা পেলেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় লোকসানে কৃষকরা। উৎপাদন খরচ ও পরিবহন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কলার দাম নিশ্চিত করাই এখন চাষিদের প্রত্যাশা।





