অর্থনীতি
কৃষি

চলতি মৌসুমে জামালপুরে ১৫ কোটি টাকার কুল বিক্রির আশা

জামালপুরে ধান ও সবজি চাষের জমিতে বাণিজ্যিকভাবে কুল চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে। কম খরচ ও ভালো দাম পাওয়ায় কয়েক বছরে কুল চাষের পরিধি বেড়েছে ১০ গুণ। কর্মসংস্থান হয়েছে বেকারদের। গড়ে উঠেছে কুল বিক্রির বাজার। এ মৌসুমে জেলায় ১৫ কোটি টাকার ফল বিক্রির আশা।

চলতি বছর দুই বিঘা জমি লিজ নিয়ে বিভিন্ন জাতের কুলের চাষ করেছেন সাগর হোসেন । এতে তার বিঘা প্রতি খরচ পড়েছে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। বাজারে চাহিদা থাকায় সব খরচ বাদে ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা বিক্রির আশা তার।

কুল চাষি সাগর হোসেন বলেন, '১ লাখ ২০ হাজার মত বিক্রি হয়েছে। সামনে আরও দুই থেকে তিন লাখ টাকা বিক্রি হতে পারে।'

খরচ কম হওয়ায় কৃষক সাগরের মতো জামালপুরের অনেকেই কুল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। জেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ৩শ' হেক্টর জমিতে বল সুন্দরী, ভারত সুন্দরী, থাই ও কাশ্মিরী কুলসহ বিভিন্ন জাতের কুল চাষ হয়েছে। সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে চাহিদা বেশি তাই কৃষকরা দামও পাচ্ছেন ভালো।

কুল চাষি একজন বলেন, 'এক বিঘা জমিতে থাই আপেল আর বরই এর বাগান করেছি। এখন পর্যন্ত এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকার মতো বিক্রি হয়েছে।'

এদিকে ফলের বাগান বাড়ায় কর্মসংস্থান হয়েছে অনেকের। জনপ্রতি দৈনিক আয় হচ্ছে আড়াইশ' থেকে ৩শ' টাকা।

শ্রমিকরা বলেন, 'বরই বাগানে কাজ করে আমরা সংসার চালাচ্ছি। আমাদের তিনশ' টাকা করে বেতন ও একবেলা একবার দেয়।'

বিভিন্ন উপজেলার চাষিরা তাদের উৎপাদিত কুল বিক্রির উদ্দেশ্যে নেন শহরের ডাকপাড়া ফলের বাজারে। সকাল বেলার হাটে দৈনিক বিক্রি হয় ৩শ' থেকে ৪শ' মণ কুল। যার বাজারমূল্য ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা। এরপর এখান থেকে তা চলে যায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

ব্যবসায়ীরা বলেন, 'আমার ফলের দোকান আছে। খুচরা বিক্রি করি। এইখান থেকে পাইকারি নিয়ে যায়।'

জেলায় এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্য ৪ হাজার টন। তবে, কৃষি বিভাগের আশা উৎপাদন আরও বেশি হবে। চলতি মৌসুমে জেলায় অন্তত ১২ থেকে ১৫ কোটি টাকার কুল বিক্রির প্রত্যাশা বিভাগটির।

জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক জাকিয়া সুলতানা বলেন, 'জামালপুর জেলার ছোট বড় বাগান আকারে তিনশ' হেক্টর জমিতে বরই আবাদ হচ্ছে। চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা দিন দিন বরই বাগানে আগ্রহী হচ্ছে। সেই সাথে বাজার মূল্য ভালো হওয়ায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছে।'

জামালপুরের হর্টিকালচার সেন্টার উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মুহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, আমরা হর্টিকালচার সেন্টার থেকে বিভিন্ন ধরনের কুলের চারা কৃষকদের মাঝে সুলভ মূল্যে দিয়ে যাচ্ছি। তাদেরকে কুল চাষ পদ্ধতির কলা কৌশল সম্পর্কে পরামর্শ দিচ্ছি।'

জামালপুরের চরাঞ্চলের পতিত জমিতে মৌসুমী অর্থকরী ফসল হিসেবে ফলটি চাষ করা গেলে অর্থনৈতিকভাবে আরও লাভবান হওয়া সম্ভব।

আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার করে কম খরচে অধিক লাভ হওয়াতে কয়েক বছরে জামালপুরে কুল চাষ বেড়েছে ১০ গুণেরও বেশি।

ইএ

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর