
চালু হলো ‘বাংলা কিউআর’; বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মার্চেন্ট ফি কত?
বাংলাদেশকে একটি সম্পূর্ণ নগদ টাকাবিহীন বা ক্যাশলেস সোসাইটি হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দীর্ঘদিনের। এই রূপান্তরের সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি হওয়ার কথা ছিল ‘বাংলা কিউআর’ (Bangla QR) কোড। কিন্তু সম্প্রতি চালু হওয়া একটি নিয়ম এই মহৎ উদ্যোগে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে যাচ্ছে। ডিজিটাল লেনদেনে যখন বিশ্বজুড়ে ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করা হচ্ছে, তখন বাংলাদেশে প্রতিটি ‘বাংলা কিউআর’ ট্রানজেকশনে মার্চেন্ট বা ক্ষুদ্র-বড় ব্যবসায়ীদের ভ্যাটসহ সর্বোচ্চ ১% পর্যন্ত বাড়তি ফি দিতে হবে— এমন খবর ছড়িয়ে পড়েছে।

ফুটপাতেও ‘বাংলা কিউআর’; ফি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
নগদ টাকার ঝামেলাহীন লেনদেন নিশ্চিতে মতিঝিলের ফুটপাত জুড়ে এখন দেখা মিলছে ‘বাংলা কিউআর’ কোডের। তবে লেনদেনে ১ শতাংশ ফি নির্ধারণ করায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ফি কাটা হলেও এর সবচেয়ে বড় উপকারভোগী হবেন ব্যবসায়ীরাই।

বাংলা কিউআরে পেমেন্টে মার্চেন্টদের নতুন ফি
বাংলা কিউআরের মাধ্যমে কেনাকাটায় মার্চেন্টদের জন্য নতুন ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, কার্ড কিংবা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কিউআর পেমেন্ট গ্রহণ করলে মার্চেন্টকে সর্বনিম্ন এক শতাংশ চার্জ দিতে হবে।

দেশজুড়ে চালু ‘বাংলা কিউআর’, বাস্তবায়নে শুরুতেই ধাক্কা
সারা দেশের আজ (বুধবার, ১ জুলাই) থেকে সব দোকানে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে ‘বাংলা কিউআর’। তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। নতুন এ অভিন্ন কিউআর কোড সম্পর্কে অধিকাংশ ব্যবসায়ীর কাছেই পরিষ্কার কোনো ধারণা নেই।

বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক হচ্ছে আজ
দেশে ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও সর্বজনীন করতে বাংলাদেশ ব্যাংক আজ (বুধবার, ১ জুলাই) থেকে বাংলা কিউআর (কুইক রেসপন্স) কোড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে। নগদবিহীন (ক্যাশলেস) এ ব্যবস্থা আরও সহজ ও স্বচ্ছ করবে লেনদেন। এদিকে, বাংলা কিউআর বাস্তবায়ন করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ব্যাংকসমূহ।

প্রস্তুতি ছাড়াই ‘বাংলা কিউআর’ বাধ্যতামূলক, বাস্তবায়ন নিয়ে আশঙ্কা
১ জুলাই থেকে সারা দেশে বাধ্যতামূলকভাবে বাংলা কিউআর চালুর সিদ্ধান্ত হলেও এখনও অনেক ব্যবসায়ী জানেনই না বাংলা কিউআর সম্পর্কে। প্রস্তুতি ও সচেতনতা ছাড়া বাধ্যতামূলক বাস্তবায়ন উল্টো প্রত্যাশার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে শঙ্কা অর্থনীতিবিদদের। তারা বলছেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে বরং বড় করফাঁকিদাতাদের কার্যকরভাবে করের আওতায় আনাই হবে রাজস্ব বাড়ানোর আরও বাস্তবসম্মত উপায়।

দেশজুড়ে বাংলা কিউআর সম্প্রসারণে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সহায়তা চাইলেন গভর্নর
দেশের অর্থনীতিতে নগদ অর্থের ব্যবহার কমানো, আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সুবিধা প্রান্তিক পর্যায়ের গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিতে বাংলা কিউআরের ব্যবহার সম্প্রসারণে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সহায়তা চাইলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

জুলাই থেকে ‘বাংলা কিউআর’ বাধ্যতামূলক: কীভাবে নেবেন, কী কী কাগজপত্র লাগবে এবং সুবিধা কী?
স্মার্ট ও ক্যাশলেস বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (Bangla QR Code Bangladesh Bank Update: Benefits, Registration Process and Requirements)। আগামী ১ জুলাই, ২০২৬ থেকে দেশের সব ধরনের ব্যবসায়িক লেনদেনে ‘বাংলা কিউআর’ কোড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক (Bangla QR code mandatory Bangladesh Bank)। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে দেশের সকল বাণিজ্যিক ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) এবং ডিজিটাল পেমেন্ট গেটওয়ে সিস্টেমগুলোকে একই প্ল্যাটফর্মে বা ইন্টারঅপারেবল সিস্টেমে যুক্ত হওয়ার চূড়ান্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে (Digital payment interoperability deadline Bangladesh)।