লিওনেল মেসি। নামটি শোনার সঙ্গে সঙ্গে আপনার মনে ভেসে উঠবে আর্জেন্টিনার কথা। লাতিন আমেরিকার দেশটির সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন তো তিনিই! কেমন হতো, যদি মেসিকে খেলতে দেখতেন ব্রাজিলের হয়ে? অসম্ভব মনে হচ্ছে? তবে হতে পারতো এমনটাই! আর্জেন্টাইন মহাতারকার পূর্বপুরুষের আদিনিবাস যে ছিলো চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের দেশেই!
এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন ইতালীয় গবেষক ও সাংবাদিক ফিওরেঞ্জো সান্তিনি। তার গবেষণায় উঠে এসেছে, লিওনেল মেসির মাতৃপরিবার একসময় ব্রাজিলে বসবাস করত। পরে তারা আর্জেন্টিনায় স্থায়ী হয়। ব্রাজিলের সাও পাওলো অঙ্গরাজ্যের রিবেইরাঁও প্রেতো শহরেই পরিবারের আসল পদবি ‘কক্কিত্তিনি’ পরিবর্তিত হয়ে ‘কুচ্চিত্তিনি’ হয়।
আরও পড়ুন:
বহু বছর ধরে দক্ষিণ আমেরিকায় ইতালির মার্কে অঞ্চলের অভিবাসন নিয়ে কাজ করছেন সান্তিনি। ইতালির ম্যাসেরাতেসি ক্রনিকলস পত্রিকায় তার এ গবেষণা প্রকাশিত হয়। মেসির পিতৃসূত্রের ইতিহাসও উঠে এসেছে এ গবেষণায়। ১৮৯৩ সালে তার প্রপিতামহ অ্যাঞ্জেলো মেসি ইতালির মন্টেফিওরে দি রেকানাতি এলাকা ছেড়ে আর্জেন্টিনার রোজারিওতে পাড়ি জমান।
মেসির মাতৃসূত্রের পদবি ‘কক্কিত্তিনি’ ইতালিতে প্রায় অদৃশ্য হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন অনুসন্ধান চালান সান্তিনি। পরিবারের এক আত্মীয়ের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনি নিশ্চিত হন, মূল পদবিটি ছিলো ‘কক্কিত্তিনি’। যা ব্রাজিলে অবস্থানকালে পরিবর্তিত হয়। এই গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে ইতালির সান সেভেরিনো শহর মেসিকে সম্মানসূচক নাগরিকত্বও দেয়।
২০১৫ সালে মেসির বাবা হোর্হে মেসি পরিবারের ইতালীয় নাগরিকত্বের প্রক্রিয়ায় সান্তিনির সহায়তা চান। তখনই জানা যায়, পরিবারটি আগেই রেকানাতির নাগরিক নিবন্ধনে অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে আদিনিবাস যাই হোক, হলুদের বদলে মেসি আকাশী-নীল জার্সিতে খেলায় স্বস্তি পেতেই পারেন আর্জেন্টাইন সমর্থকরা।





