নাহ, এবার আর হলো না! মেটলাইফে ফেরানো গেলো না লুজাইলের স্মৃতি। মহাকাব্যিক বিদায় হলো না লিওনেল মেসির। সব গল্পের শেষটা সুখকর হয় না বলেই হয়তো জাদুকরকে ফিরতে হলো শূন্য হাতে।
চেনা ঢং, চেনা কণ্ঠে পিটার ড্রুরি ঘোষণা করলেন নতুন চ্যাম্পিয়নের নাম। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আলোকবর্তিকা হস্তান্তরের মঞ্চায়ন হলো নিউজার্সিতে; মেসির হাত থেকে যেন পরের প্রজন্মের ভার বুঝে নিলেন লামিনে ইয়ামাল।
তবে পুরো ম্যাচটা যেভাবে খেলেছে স্পেন, তাতে মনেই হয়নি বিশ্ব আসরের সেরা দুই দল লড়ছে। শুরু থেকে শেষ, একাধিপত্য স্প্যানিশদের। তিন পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামা আর্জেন্টিনা ম্যাচের মাঝে বারবার বদলি নামিয়েছে, তবে ভাগ্যটা আর বদলাতে পারলো কই?
অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে মাঠে নামা স্পেন বল একাই দখলে রাখলো পুরোটা সময়। যতক্ষণ পেরেছে বল দখলে রেখেছে, হারালেই প্রেস করে দ্রুতই নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে—এটাই ছিলো স্পেনের আজকের ম্যাচের পারফরম্যান্সের সারসংক্ষেপ।
বিপরীতে খেই হারিয়ে মাঝ দরিয়ায় ভাসতে থাকা নৌকার মতো ম্যাচজুড়ে দুলেছে আর্জেন্টাইন শিবির। এক লিওনেল মেসিকে খোলসবন্দি করতে পারলেই যে ম্যাচ জিতে নেয়া যায় সহজেই— সেটিও যেন দেখিয়ে দিলো স্পেন।
নব্বই মিনিটের পর যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড ‘গোদের ওপর বিষফোঁড়া’ হয়ে এসেছে। দশ জনের দল নিয়ে আরও ত্রিশ মিনিট রীতিমতো বিভিষীকাময়। তবে এমিলিয়ানো মার্তিনেজের বিশ্বস্ত হাত একে একে ঠেকিয়ে দেয় এগারোটা আক্রমণ।
তবু শেষরক্ষা হলো কই? ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের গোলে আনন্দে ভাসে স্পেনের খেলোয়াড় ও সমর্থকরা।
এরপরই যেন বৃত্ত ভেঙে বেরোনোর চেষ্টা করে আর্জেন্টিনা। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে যেভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে সবাই। পুরো ম্যাচে একবারও গোলপোস্টে শট নিতে না পারা দলটা শেষমূহুর্তে বেশকিছু আক্রমণও করে। তবে এবার আর কামব্যাকের মহাকাব্য লেখা হয়েনি।
স্পেনদূর্গ ভাঙতে পারলো না আর্জেন্টিনা। ফলে ১৬ বছর পর আরও একবার সোনালি ট্রফিটা দখলে নিলো স্প্যানিশরা। আজকের দিনটা তাদেরই। মেটলাইফ থেকে যে বিশ্বজয়ীর নাম ঘোষণা হলো, তার রেশ ছড়াবে মাদ্রিদ থেকে কাতালান হয়ে স্পেনের সমস্ত পথে-প্রান্তরে।





