শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত এই ম্যাচে কিছুই নিশ্চিত ছিল না। অফসাইড, ভিএআর, পেনাল্টি, বদলি নেমে জয়সূচক গোল রোমাঞ্চের সব উপকরণই ছিল পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া লড়াইয়ে। শেষ পর্যন্ত হাসলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, আর বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেন লুকা মদ্রিচ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচে নাটকের সূচনা। ৫৩ মিনিটে ইভান পেরিসিচের গোলে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। কিছুক্ষণ পরই জাল খুঁজে নেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। কিন্তু ভিএআরে অফসাইড ধরা পড়ায় উল্লাস থেমে যায় পর্তুগালের।
তবে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ৬৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান রোনালদো। এরপর আরেকবার জালে বল পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোল হারায় ক্রোয়েশিয়া।
ম্যাচের শেষদিকে বদলি হয়ে মাঠ ছাড়েন রোনালদো। তখনও ফলাফল অনিশ্চিত। কিন্তু যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে রাফায়েল লিয়াওয়ের নিখুঁত ক্রসে দারুণ হেডে পর্তুগালকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন বদলি নামা গনসালো রামোস।
ম্যাচ তখনও শেষ হয়নি। যোগ করা সময়ের ১৩তম মিনিটে সমতার গোল পেয়ে উল্লাসে মেতে ওঠে ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু ভিএআরে দেখা যায় অফসাইড। গোল বাতিল। আনন্দ মুহূর্তেই বদলে যায় হতাশায়।
অবশেষে যোগ করা সময়ের ১৯তম মিনিটে শেষ বাঁশি। ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় পর্তুগাল। আর বিশ্বকাপের মঞ্চে শেষ হয়ে যায় লুকা মদরিচের আরেকটি স্বপ্নযাত্রা।
সময় কাউকে ছাড় দেয় না। কিন্তু কিছু ফুটবলারের গল্প সময়ের নিয়মও যেন বদলে দেয়। চল্লিশ পেরিয়েও বিশ্বকাপের নকআউট মঞ্চে নিজ নিজ দেশের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন দুই কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লুকা মদ্রিচ।
শেষবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন আর ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আবেগঘন লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এবার রাউন্ড অব সিক্সটিনে তাদের প্রতিপক্ষ ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন স্পেন।





