হাল ছেড়ে দিতে চাইছেন না রোনালদো। তবে ফর্ম, পরিসংখ্যান কিংবা ভাগ্য কোনটাই যেন আর সঙ্গী হচ্ছে না তার। লিওনেল মেসির পর দ্বিতীয় ফুটবলার নিজের ৬ষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলতে আসা রোনালদো মোটেও মঞ্চটা রাঙাতে পারেননি নিজের রঙে। ৯০ মিনিট খেলেও বলে প্রতিপক্ষ দলের গোলরক্ষক থেকেও কম টাচ করতে পেরেছেন তিনি, সংখ্যার হিসেবে যা মাত্র ২৫।
বুধবার রাতে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল কঙ্গোর বিপক্ষে পুরো ম্যাচে ছিলো না তার কোন গোল, এসিস্ট কিংবা গোলমুখে শটও। একটি গোলের সুযোগও তৈরি করতে পারেননি তিনি। উল্টো মিস করেছেন তিনটি বড় সুযোগ। এমনকি পুরো ম্যাচে সফল পাস দিতে পেরেছেন মাত্র ২১টি। এতেই ফুটবল বোদ্ধা থেকে সাধারণ ভক্ত সবার সমালোচনার ঝড়ের কবলে পড়েছেন এই পর্তুগিজ সুপারস্টার।
ফ্রান্স কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি ম্যাচ বিশ্লেষণের সময় বলেন, রোনালদোর নিজে গোল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন, যার কারণে ব্রুনো ফার্নান্দেজ সহজ একটি গোল থেকে বঞ্চিত হন। দলের গোল প্রয়োজন ব্যক্তি রোনালদোর নয়, সিআরসেভেনকে এটি অনুধাবন করতেও পরামর্শ দিয়েছেন অনেক বিশ্লেষক।
আরও পড়ুন:
কিন্তু প্রশ্ন উঠে, শুধু এক ম্যাচ খারাপ খেলায় কি রোনালদোকে নিয়ে এত সমালোচনার কাটাছেঁড়ায় ফেলে দেয়া যায়? এক্ষেত্রে তার পক্ষে সাক্ষ্য দিচ্ছে না তার বিশ্বকাপের পরিসংখ্যানও। এখন পর্যন্ত ছয় বিশ্বকাপে ২৩ ম্যাচ খেলে মাত্র ৮ গোল আর দুইটি এসিস্টই তিনি করতে পেরেছেন।
এমনকি ফুটবলের মেজর ইভেন্টেও ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। ২০২২ বিশ্বকাপ থেকে ২০২৪ ইউরো হয়ে ২৬ বিশ্বকাপ, শীর্ষ প্রতিযোগিতায় দশ ম্যাচ ধরে গোল শূন্য তিনি। এসময়ে তিনি নিয়েছেন মোট ৩৩টিশট যার মধ্যে গোলমুখে ছিলো ১১টি। তবে গোলখরা তিনি কাটাতে পারেনি। তাইতো অনেকে ভাবছেন, পর্তুগালের এই তারকাখচিত দলে রোনালদোর বিকল্প ভাবা এখন সময়ের দাবি।
তবে ২০২২ বিশ্বকাপের পর থেকেই বিশ্বকাপ বাছাই ও নেশনস লিগে দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন তিনি। এসময়ে ৩৩ ম্যাচে তিনি করেছিলেন ২৫ গোল। দলকে নেশনস লিগ জেতাতে নকআউট রাউন্ডে করেছিলেন জার্মানি ও স্পেনের বিপক্ষে গোলও।
আর রোনালদো মানেই তো অবিশ্বাস্য কামব্যাকের গল্প। তাই এখনই তার শেষ দেখছেন না ভক্ত-অনুরাগীরা। আবারও ঘুরে দাঁড়াবেন তিনি এমনটাই বিশ্বাস তাদের।




