চার দশক পর আফ্রিকায় ফিরছে ফর্মুলা ওয়ান

ফর্মুলা ওয়ান
ফর্মুলা ওয়ান | ছবি: সংগৃহীত
0

গতি, গর্জন আর রোমাঞ্চের মঞ্চে ফিরছে আফ্রিকা। প্রায় চার দশকের অপেক্ষা শেষে ফর্মুলা ওয়ানের গ্রাঁ প্রি আয়োজন করতে যাচ্ছে রুয়ান্ডা। ২০৩০-এর দশকের শুরুতে দেশটিতে বসবে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ মোটর রেসিং প্রতিযোগিতার আসর। ১০ বছরের চুক্তিতে শুধু রেস নয়, গোটা দেশকে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের নতুন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরার স্বপ্ন দেখছে রুয়ান্ডা।

ইঞ্জিনের গর্জন, চোখধাঁধানো গতি আর সেকেন্ডের ভগ্নাংশে জয়-পরাজয়ের হিসাব। ফর্মুলা ওয়ানের রোমাঞ্চ এবার ফিরছে আফ্রিকার মাটিতে। আর সেই প্রত্যাবর্তনের মঞ্চ তৈরি করছে রুয়ান্ডা।

১৯৯৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার কায়ালামিতে হয়েছিল আফ্রিকার সর্বশেষ ফর্মুলা ওয়ান রেস। এরপর পেরিয়েছে তিন দশকেরও বেশি সময়। এবার সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাতে যাচ্ছে পূর্ব আফ্রিকার দেশটি।

২০৩০-এর দশকের শুরুতে ১০ বছরের চুক্তিতে আয়োজন করা হবে আফ্রিকান গ্রাঁ প্রি। রাজধানী কিগালির দক্ষিণ-পূর্বে বুগেসেরায় নির্মিত হবে অত্যাধুনিক রেসিং সার্কিট। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি এই ট্র্যাক তৈরি করা হবে এফআইএর গ্রেড-ওয়ান মানদণ্ডে। তবে কবে নাগাদ প্রথম রেস অনুষ্ঠিত হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

আরও পড়ুন

রুয়ান্ডার পরিকল্পনা অবশ্য শুধু রেসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সার্কিটকে ঘিরে গড়ে তোলা হবে পর্যটন, বাণিজ্য, ক্রীড়া ও যোগাযোগ অবকাঠামো। সরকারের লক্ষ্য বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি দর্শকের নজর কাড়ার পাশাপাশি বাড়ানো পর্যটন, বিদেশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান।

ফর্মুলা ওয়ানের জন্য আফ্রিকায় রয়েছে ১০ কোটিরও বেশি ভক্ত। ফলে নতুন এই আয়োজন বাণিজ্যিকভাবেও খুলে দিতে পারে বড় সম্ভাবনার দুয়ার। তবে রুয়ান্ডার এই উদ্যোগে প্রতিযোগিতার বাইরেও রয়েছে চ্যালেঞ্জ।

বিশাল ব্যয়ে সার্কিট নির্মাণ ও পরিচালনার অর্থনৈতিক সাফল্য নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে দেশটির সরকারের সমালোচনাও নতুন করে আলোচনায় আসতে পারে।

এদিকে, আফ্রিকায় গ্রাঁ প্রি ফেরানোর দৌড়ে এখনো রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাও। রুয়ান্ডার সঙ্গে চুক্তি হলেও ভবিষ্যতে মহাদেশটিতে একাধিক রেস আয়োজনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়নি ফর্মুলা ওয়ান। সব মিলিয়ে, রুয়ান্ডার সামনে এখন দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ বিশ্বের দ্রুততম রেসিং কারের জন্য উপযুক্ত ট্র্যাক তৈরি করা, আর সেটা কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনীতি ও পর্যটনকে এগিয়ে নেওয়া।

জেআর