অলিম্পিক বাকি ১ বছরের কম; অর্থ ছাড়ের অপেক্ষায় ঝুলছে প্রস্তুতি

দেশের কয়েকটি ক্রীড়া ফেডারেশনের কার্যালয়
দেশের কয়েকটি ক্রীড়া ফেডারেশনের কার্যালয় | ছবি: এখন টিভি
0

গ্রেটেস্ট শো অন আর্থখ্যাত অলিম্পিক গেমস শুরু হতে এক বছর বাকি না থাকলেও সরকারি অর্থ ছাড়ের অপেক্ষায় এখনো প্রস্তুতি শুরু করেনি বেশিরভাগ ফেডারেশন। অবশ্য শিগগিরই অর্থ প্রাপ্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরুর প্রত্যাশা বিওএ সহ-সভাপতির। নানা পক্ষের সমন্বহীনতায় অলিম্পিকেও ভালো করা নিয়ে রয়েছে শঙ্কা।

বড় কোনো টুর্নামেন্ট এলেই ব্যস্ত হয়ে পড়ে দেশের ফেডারেশনগুলো, চলে স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণ। আসর শুরুর আগে ফলানো হয় আশার বেলুন, তবে খেলা মাঠে গড়াতেই সেই বেলুন চুষে যায়। প্রত্যাশার পারদ নেমে গিয়ে সেই জায়গা দখল করে হতাশা।

সদ্য সমাপ্ত এশিয়ান গেমসে ২২টি ইভেন্টে ১৮৭ জন ক্রীড়াবিদ গেলেও প্রাপ্তি একটিমাত্র ব্রোঞ্জ। সেটিও আবার ভাগ্যের সহায়তায়। পর্যাপ্ত অনুশীলন ও পরিকল্পনার অভাবে শুধু অংশগ্রহণেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

ক্রীড়া বিশ্লেষক এম.এম. কাইসার বলেন, ‘যেকোনো গেমসে বা যেকোনো আসরে যদি আপনি ভালো পারফরম্যান্স করতে চান, তাহলে প্রথম শর্তটা হলো যে আপনাকে একটা কনক্লুসিভ প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। তো সেই ধরনের একটা মানে কংক্রিট প্রশিক্ষণ তো বাংলাদেশের মুখে বলে, প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু সেইরকমভাবে ফেডারেশনগুলো আমরা দেখি না। এবং সেটা দেখি না বলেই কিন্তু আপনি মাত্র ১৫ দিন বা এক মাস বা দু মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে আমরা গেমসে যাই, গেমসে গিয়ে সেখান থেকে পদকের আশা করে থাকি। তো এত কম সময়ের মধ্যে প্রশিক্ষণ নিলে আপনি কখনোই কোনো ধরনের বড় কোনো আসরে সাফল্যটুকু পাবেন না।’ 

আগামী বছর লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হবে অলিম্পিক গেমস। অলিম্পিকের জন্য এক বছরেরও বেশি সময় আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়ার ঘোষণা এলেও বাস্তবে ভিন্ন চিত্র। সরকারের কাছ থেকে অর্থ ছাড়ের অপেক্ষায় অধিকাংশ ফেডারেশন। ফলে আবারও প্রস্তুতি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। যদিও শীঘ্র জটিলতা কাটবে বলে জানালেন বিওএ’র সহ-সভাপতি ইমরোজ আহমেদ।

বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনে সহ-সভাপতি মেজর (অব.) ইমরোজ আহমেদ বলেন, ‘প্রস্তুতির ব্যবস্থাপনার যখন আপনি করছেন, তার সাথে কিছু আর্থিক ব্যবস্থাপনার ব্যাপারটা চলে আসে। তার মানেই হচ্ছে ক্যাম্প চলবে, ক্যাম্পে তাদের খাওয়া-দাওয়ার খরচ, প্রশিক্ষণে অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ। তো সেই কাজটা সরকার যেহেতু এই ব্যয়গুলো বহন করেন, সরকার যখন নির্দেশনা দেবেন তখন আসবে। সরকার অর্থায়ন করলে অলিম্পিকের থ্রুতে অলিম্পিক সেভাবে আনুষ্ঠানিকতা করে তারপরে করবেন।’

আর্থিক জটিলতা দূর করতে মন্ত্রণালয়কে আরো দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান ক্রীড়া বিশ্লেষক এম এম কায়সারের। সেই সঙ্গে সরকার, বিওএ ও ফেডারেশনগুলোর মাঝে আরো সমন্বয় প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।

ক্রীড়া বিশ্লেষক এম.এম. কাইসার বলেন, ‘পুরা বিষয়টা হলো যে একটা আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মধ্যে পড়ে যায়। টাকা আসে না এমন কিছু না, টাকা ছাড় হয় পরে। একটু পরে হয়। তো যেটা পরে হয় সেটা আগে কেন করা যাবে না? সেই ধরনের একটু দ্রুতায়নটা যদি করা যেতে পারে একটু কুইক সবকিছু অ্যারেঞ্জমেন্ট করা যেতে পারে, তাহলে দেখবেন যে আপনি সব ক্ষেত্রেই খুব সুন্দরভাবে নিয়মমাফিক সবকিছু চলবে।’ 

সব পক্ষের মাঝে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করার মানসিকতা থাকলেই আসবে বড় মঞ্চের সাফল্য।


এএম