বড় কোনো টুর্নামেন্ট এলেই ব্যস্ত হয়ে পড়ে দেশের ফেডারেশনগুলো। চলে স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণ। আসর শুরুর আগে ফোলানো হয় আশার বেলুন। তবে খেলা মাঠে গড়াতেই সেই বেলুন চুপসে যায়। প্রত্যাশার পারদ নেমে গিয়ে সেই জায়গা দখল করে হতাশা।
সদ্য সমাপ্ত এশিয়ান গেমসে ২২টি ইভেন্টে ১৮৭জন ক্রীড়াবিদ গেলেও প্রাপ্তি একটি মাত্র ব্রোঞ্জ। সেটিও আবার ভাগ্যের সহায়তায়। পর্যাপ্ত অনুশীলন ও পরিকল্পনার অভাবে শুধু অংশগ্রহণেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।
ক্রীড়া বিশ্লেষক এম. এম. কায়সার বলেন, ‘যেকোনো গেমসে বা যেকোনো আসরে যদি আপনি ভালো পারফরম্যান্স করতে চান, তাহলে প্রথম শর্তটা হলো যে আপনাকে একটা কনক্লুসিভ প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। তো সেই ধরনের একটা মানে কংক্রিট প্রশিক্ষণ তো বাংলাদেশে মুখে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু সেরকমভাবে ফেডারেশনগুলো আমরা সংবাদমানে পুরোপুরি লম্বা সময় ধরে বা দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাটুকু দেখি না। এবং সেটা দেখি না বলেই কিন্তু আপনি মাত্র ১৫ দিন বা এক মাস বা দু মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে আমরা গেমসে যাই, গেমসে গিয়ে সেখান থেকে পদকের আশা করে থাকি। তো এত কম সময়ের মধ্যে প্রশিক্ষণ নিলে আপনি কখনোই কোনো ধরনের বড় কোনো আসরে সাফল্যটুকু পাবেন না।’
আগামী বছর লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হবে অলিম্পিক গেমস। অলিম্পিকের জন্য এক বছরেরও বেশি সময় আগে থেকে প্রস্তুতি নেয়ার ঘোষণা এলেও বাস্তবে ভিন্ন চিত্র। সরকারের কাছ থেকে অর্থ ছাড়ের অপেক্ষায় অধিকাংশ ফেডারেশন। ফলে আবারও প্রস্তুতি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। যদিও শিগগিরই জটিলতা কাটবে বলে জানালেন বিওএ’র সহ সভাপতি ইমরোজ আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘প্রস্তুতির ব্যবস্থাপনা যখন আপনি করছেন, তার সঙ্গে কিছু আর্থিক ব্যবস্থাপনার ব্যাপারটা চলে আসে। তার মানেই হচ্ছে ক্যাম্প চলবে, ক্যাম্পে তাদের খাওয়া-দাওয়ার খরচ, প্রশিক্ষণের অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ—তো সেই কাজটা সরকার যেহেতু এই ব্যয়গুলো বহন করেন, সরকার যখন নির্দেশনা দেবেন তখন আসবে। সরকার অর্থায়ন করলে অলিম্পিকের থ্রুতে অলিম্পিক সেভাবে আনুষ্ঠানিকতা করে তারপরে করবেন।’
আর্থিক জটিলতা দূর করতে মন্ত্রণালয়কে আরো দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান ক্রীড়া বিশ্লেষক এম এম কায়সারের। সেই সঙ্গে সরকার, বিওএ ও ফেডারেশনগুলোর মাঝে আরো সমন্বয় প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।
এম. এম. কায়সার বলেন, ‘পুরো বিষয়টা হলো যে একটা আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মধ্যে পড়ে যায় টাকা আসে না, এমন কিছু না টাকা ছাড় হয় পরে একটু পরে হয়। তো যেটা পরে হয় সেটা আগে কেন করা যাবে না, সেই ধরনের একটু দ্রুত আয়নটা যদি করা যেতে পারে একটু কুইক সবকিছু অ্যারেঞ্জমেন্ট করা যেতে পারে তাহলে দেখবেন যে আপনি সবক্ষেত্রেই খুব সুন্দরভাবে নিয়মাফিক সবকিছু চলবে।’
সব পক্ষের মাঝে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করার মানসিকতা থাকলেই আসবে বড় মঞ্চে সাফল্য।





