মুখে চওড়া হাসি আর বেশ ফুরফুরে মেজাজে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে হাজির ফরাসি বস জিনেদিন জিদান। কৌশলগত জয় আর দলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে যে তিনি ভীষণ সন্তুষ্ট, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
দীর্ঘদিন ফুটবলের বাইরে থাকার পর নিজের দেশের ডাগআউটে দাঁড়িয়ে টানা দুই ম্যাচে নিজের কৌশলে সাফল্য পেয়েছেন জিদান। দলের জয়ের পাশাপাশি এক অনন্য কীর্তি গড়েছেন এই কিংবদন্তি।
স্ট্যাটস ফুট-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফ্রান্স জাতীয় দলের ইতিহাসে কেবল চতুর্থ কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে প্রথম দু’টি আনুষ্ঠানিক ম্যাচে সাফল্য পেয়েছেন জিদান। এর আগে ফ্রান্স দলের এই রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন হেনরি গুয়েরিন, হেনরি মিচেল এবং আইমে জ্যাক।
তবে ম্যাচের পরিস্থিতি দেখে অন্যরকম ফলাফলই ভাবনায় ছিলো সমর্থকদের। চোটের কারণে দলে নেই কিলিয়ান এমবাপ্পে। অন্যদিকে, বেলজিয়ামের বিপক্ষে শুরুর একাদশে রায়ান চেরকি, মাইকেল ওলিসে এবং উসমান দেম্বেলেকে মাঠে নামাননি কোচ জিদান।
আরও পড়ুন:
তবে ম্যাচের ৮০ মিনিট পার হলেও যখন ডেডলক ভাঙছিলো না, ঠিক তখনই ডাগআউট থেকে মাস্টারস্ট্রোক খেললেন কোচ জিনেদিন জিদান। সুপার সাব হিসেবে ওলিসকে মাঠে নামান এই মাস্টারমাইন্ড। কোচের আস্থার প্রতিদান দিতে একটুও ভুল করেননি ওলিসে। বদলি নেমেই দুর্দান্ত এক গোল করে দলকে এনে দেন কাঙ্ক্ষিত জয়।
প্রতিপক্ষদের পেছনে ফেলে উয়েফা নেশনস লিগের পয়েন্ট টেবিলের একদম শীর্ষে উঠে এসেছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
এদিকে রাতের অন্য ম্যাচে তুরস্ককে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়েছে ইতালি। তাতে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম জয় পেলেন কোচ রবার্তো মানচিনি। আগের ম্যাচগুলোর ব্যর্থতা ভুলে এ দিন মাঠে একদম ভিন্ন রূপে দেখা গেলো তার শিষ্যদের।
সুশৃঙ্খল রক্ষণ আর দারুণ কাউন্টার অ্যাটাকিং ফুটবলে তুরস্ককে হারিয়ে অবশেষে টুর্নামেন্টের প্রথম জয়ের দেখা পেলেন মানচিনি। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর ইতালিয়ান ডাগআউটের উদযাপনই বলে দিচ্ছিলো, এই জয়টা তাদের জন্য কতটা দরকার ছিলো।
দলের হয়ে গোল করেন আলেসান্দ্রো বাস্তোনি, ডেভিদে ফ্রাত্তেসি, মাইকেল কায়োদে এবং এস্পোসিতো। নেশনস লিগে ইতালির এ জয়ে টেবিলের সমীকরণ যেমন জমে উঠেছে, তেমনি দলগুলোর আত্মবিশ্বাসও পৌঁছে গেছে তুঙ্গে। সব মিলিয়ে ইউরোপিয়ান ফুটবলের রোমাঞ্চ এখন আকাশচুম্বী।





