মাঠের নিয়ন্ত্রণ আর কৌশলের নিখুঁত প্রদর্শন নেশনস লিগে যেন চেনা ছন্দে ফিরল ফরাসিরা। ডাগআউটে জিনেদিন জিদানের জাদুকরী উপস্থিতি আরও একবার প্রমাণ করল কেন তিনি অনন্য। তুরস্কের রক্ষণভাগকে চূর্ণ বিচূর্ণ করে জেনো এক দাপুটে জয় তুলে নিল ব্লুজরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই ঘরের মাঠে হাই প্রেসিং আর ফিজিক্যাল ফুটবলে ফ্রান্সকে ভালোভাবেই চেপে ধরে তুরস্ক। শুরুতে চাপে থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ঠিকই খোলস ছেড়ে বের হয় ফ্রান্স। দুই কোচের কৌশলে দুই প্রান্তের কোনো জালই কাপেনি প্রথমার্ধে। বিরতির পর তুরস্ক আবারও চড়াও হয় ফ্রান্সের উপর। তবে জিনেদিন জিদানের মাস্টারপ্ল্যান আর কিলিয়ান এমবাপ্পের মুন্সিয়ানায় ম্যাচের মোড় পাল্টে দেয় ফ্রান্স। বাঁ প্রান্ত থেকে নিখুঁত শটে ফরাসি জার্সিতে নিজের ৬৭তম গোলটি তুলে নিলেন ফরাসি অধিনায়ক।
জয় নিশ্চিতের পথে থাকা ফ্রান্স দলের সেই আনন্দের স্থায়িত্ব হলো মাত্র কয়েক সেকেন্ড। বল জালে জড়ানোর মুহূর্তেই এমবাপ্পের মুখে যন্ত্রণার ছাপ। বসে পড়লেন মাটিতে। ৫৯ মিনিটে খোঁড়াতে খোঁড়াতে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। পরবর্তীতে ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয় হাটুর চোটে আপাতত ফ্রান্স দলের হয়ে কয়েক ম্যাচ মাঠে নামবেন না এমবাপ্পে।
ফরাসি শিবিরের জয়ের বিপরীত চিত্র একই গ্রুপে থাকা ইতালির। ডাগআউটে রবার্তো মানচিনির প্রত্যাবর্তন আনন্দের হয়নি। ইতালিয়ান ফুটবলের পুনরুত্থানের নায়ক মানচিনি এদিন মাঠ ছাড়লেন নত মস্তকে। বেলজিয়ামের গতি আর নিখুঁত ফিনিশিংয়ের সামনে খড়কুটোর মতো উড়ে গেল ইতালির রক্ষণভাগ।
বিরতির আগে এবং পরে মিকা গোডটস ও দোদি লুকেবাকিওর দুই গোলে নেশনস লিগে শুরুতেই কঠিন পরীক্ষায় পড়ল আজ্জুরিরা। গোল শোধ করার পরিকল্পনার বিপরীতে মাঠেই যেন খেই হারিয়ে ফেলে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
একই রাতে দুই মহাদেশীয় পরাশক্তির দুই ভিন্ন পথচলা। জিদানের কৌশলে ফ্রান্স যখন নতুন উচ্চতায় ওঠার স্বপ্ন দেখছে। তখন মানচিনি তার ছক পুনগর্ঠন করে ইতালিকে কিভাবে কামব্যাক করান সেটাই দেখার অপেক্ষায় ফুটবল ভক্তরা।





