গত কয়েক সপ্তাহে দেশটির বিভিন্ন স্থানে হাইস্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা শিক্ষা খাতে বাজেট বাড়ানো ও সুযোগ-সুবিধার দাবিতে পথ অবরোধ ও বিক্ষোভ শুরু করে। বহু জায়গায় এই বিক্ষোভ পুলিশি বাধার মুখে পড়ে সংঘাতময় রূপ নেয়। বিক্ষোভ দমনে ইউরোপের অন্যতম বড় নিরাপত্তা বাহিনীকে মাঠে নামায় ফরাসি সরকার।
সরকারি হিসাবে, সাম্প্রতিক সপ্তাহে গ্রেপ্তার করা ৮ হাজার মানুষের বেশির ভাগেরই বয়স ১৮ বছরের নিচে। অন্যদিকে, সংঘর্ষে ৯ শতাধিক পুলিশ সদস্য এবং ১৫০ জনের বেশি শিক্ষক ও স্কুলের কর্মী আহত হয়েছেন। দাঙ্গা নিয়ন্ত্রক পুলিশ বিভিন্ন অস্ত্র ব্যবহার করায় অনেক তরুণ শিক্ষার্থী গুরুতর জখম ও শারীরিক পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছে।
ফরাসি অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানান, বিক্ষোভ দমনে অন্তত ১৮ হাজার বার কাঁদানে গ্যাস, ধোঁয়ার গ্রেনেড ও প্রজেক্টাইল ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এক ১৫ বছরের কিশোর গ্রেনেডের বিস্ফোরণে হাত হারানোর পর একটি নির্দিষ্ট গ্রেনেডের ব্যবহার স্থগিত করেন তিনি। অপর এক ১৬ বছরের কিশোরের এক চোখ অন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ৩৬টি অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত চলছে, যার মধ্যে অঙ্গহানি, গুরুতর জখম ও যৌন হয়রানির মতো অভিযোগ রয়েছে।
সরকারের এই নীতিতে খোদ পুলিশ সদস্যরাও অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। অ্যালিয়েন্স নামের একটি পুলিশ ইউনিয়ন ফরাসি সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইউনিয়নের প্রতিনিধি ওয়ালিদ হারার বলেন, ‘আমাদের অনেক সদস্য দাঙ্গা দমনের জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নন। তারা জরাজীর্ণ হেলমেট এবং আগুনপ্রতিরোধী নয় এমন পোশাক পরে দায়িত্ব পালন করছেন।’ তিনি আরও বলেন, অস্পষ্ট আদেশের কারণে পুলিশ সদস্যরা সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য হচ্ছেন।
ফ্রান্সের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সায়েন্টিফিক রিসার্চের গবেষক সেবাস্টিয়েন রোশে জানান, সরকার আন্দোলনকারীদের ধরনের ওপর ভিত্তি করে পুলিশের প্রতিক্রিয়া নির্ধারণ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, কৃষকদের বিক্ষোভের সময় ফরাসি পুলিশ যতটা নমনীয় ছিল, শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ততটাই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সব মিলিয়ে ফ্রান্সে এই সহিংস পরিস্থিতি ম্যাক্রোঁ সরকারের বিদায়লগ্নে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।





