বাংলাদেশ ফুটবলের বর্তমান যে পরিবর্তন তার নেপথ্যে মূল রূপকার হামজা চৌধুরী। মাঠে তার উপস্থিতি যেন পুরো দলকে উজ্জীবিত করে দারুণভাবে। সতীর্থদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আত্মবিশ্বাসের মন্ত্র।
জাকার্তায় এশিয়ান কাপ সামনে রেখে বাংলাদেশ শিবিরের সমস্ত নজরটা তাই এখন এই প্রবাসী তারকা দিকে। অনুশীলনের ফাঁকে দলের নেতা হিসেবে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কঠিন প্রতিপক্ষ থাকলেও ভয়ের কোনো স্থান নেই লাল-সবুজের শিবিরে।
হামজা চৌধুরী বলেন, ‘আমরা এই টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত হতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি। আমাদের জন্য এটি অবশ্যই আমাদের চেয়ে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা দলগুলোর বিরুদ্ধে খেলার একটি বড় সুযোগ। তাই আমার মনে হয় নিজেদের দলের ভেতর আমাদের মূল লক্ষ্য হলো যত বেশি সম্ভব পয়েন্ট অর্জন করা। আপনারা জানেন, আমরা কাউকে ভয় পেতে এখানে আসিনি। আমরা আমাদের সক্ষমতা সম্পর্কে সচেতন। তবে ইনশা আল্লাহ, এটি আমাদের জন্য শেখার একটি সুযোগ এবং আমরা এখানে যতটা সম্ভব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে এসেছি, যেন আশা করি দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারি।’
হামজাকে ঘিরে দলের অন্য প্রবাসী ও স্থানীয় ফুটবলারদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে জয়ের ক্ষুধা। সমর্থকরাও দেখছে বড় স্বপ্ন।
আরও পড়ুন:
হঠাৎ করে নতুন জায়গায় মানিয়ে নেয়াটা সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং। তবে জাকার্তার পরিবেশ ও সুবিধা নিয়ে সন্তুষ্টির পাশাপাশি প্রতিপক্ষ ইন্দোনেশিয়া সম্পর্কে বাস্তবসম্মত মূল্যায়নে দলের পথ দেখাচ্ছেন এই মিডফিল্ডার।
হামজা চৌধুরী বলেন, ‘পিচ অত্যন্ত ভালো, এটা আমাদের জন্য একদম নিখুঁত। অনুশীলন করার জন্য একদম সেরা মানের পিচ। আমরা বিষয়টি উপভোগ করছি। আমরা স্টেডিয়ামটি এখনো দেখিনি, তাই ইনশা আল্লাহ আগামীকাল স্টেডিয়ামটি দেখতে পাবো। এখানকার মানুষগুলো অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ ও সদয়। ফুটবল এখানে খুবই জনপ্রিয় এবং সুযোগ-সুবিধাগুলো দারুণ। আমি শুক্রবারের ম্যাচটিতে খেলার জন্য মুখিয়ে আছি। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়।’
এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ফুটবলে অংশ নেয়া সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট হতে যাচ্ছে এই ফিফা এশিয়ান কাপ। শুক্রবারের উদ্বোধনী ম্যাচ নিয়ে পুরো দলকে একতাবদ্ধ রেখে ইতিবাচক আবহাওয়া বজায় রাখার নায়কও হামজা চৌধুরী।
হামজা চৌধুরীর নেতৃত্বে ও অভিজ্ঞতায় ভর করে এক নতুন ভোরের প্রত্যাশায় মাঠে নামবে বাংলাদেশ দল। ভয়কে জয় করে সেরাটা নিংড়ে দেয়ার এই সংকল্প মাঠে কতটা প্রতিফলিত হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





