দুর্নীতি ও কর্মসংস্থান সংকটের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এ আন্দোলন শনিবার পঞ্চম দিনে গড়ায়। মুখে মুখোশ পরা একদল তরুণ দাঙ্গা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও পেট্রোল বোমা ছুড়লে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সপ্তাহজুড়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়া এ বিক্ষোভে সরকারি ভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।
পুলিশের হিসাবে, এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৩৩০ জনকে পরে ছেড়ে দেয়া হয়। সংঘর্ষে পুলিশের অন্তত ১২০ সদস্য এবং ৪৫ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। তবে আহত বিক্ষোভকারীর প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০১৩ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা এবং গত বছর চতুর্থ মেয়াদে জয়ী হওয়া এডি রামার সরকারের জন্য এই বিক্ষোভ বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এর আগে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় সৈকতে একটি বিলাসবহুল রিসোর্ট নির্মাণের উদ্যোগ ঘিরে কয়েক মাস ধরে অসন্তোষ চলছিল। ওই প্রকল্পে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারসহ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অন্যায়ভাবে তাদের জমি বিক্রি করে এই প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। জমি বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি মাদক চোরাচালানের মামলায় অভিযুক্ত হলেও কুশনারের কোনো ধরনের অনিয়মে যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
পদত্যাগের দাবি নাকচ করে প্রধানমন্ত্রী এডি রামা ফেসবুকে এক বার্তায় জানান, সরকার শিক্ষার্থীদের অধিকারকে সম্মান করে। তিনি বলেন, ‘এই কঠিন সময়ে নাগরিকদের সুরক্ষা দেয়া, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং আলবেনিয়াকে এগিয়ে নেয়াই আমার সুস্পষ্ট দায়িত্ব।’ ২০৩০ সালের মধ্যে আলবেনিয়াকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।





