কাগজে-কলমে নিয়মের কোনো কমতি নেই। কিন্তু মাঠে বাস্তবে তার প্রতিফলন ঠিক কতটা তা নিয়ে আলোচনা কম হয়না ফুটবল পাড়ায়। দেশের ঘরোয়া ফুটবল এখন যেন ক্লাবগুলোর চিঠির রাজনীতির কাছে পুরোপুরি জিম্মি। কোনো ক্লাবের মূল খেলোয়াড় জাতীয় দলে ব্যস্ত আবার কেউ দেরিতে সূচি দেয়ায় শুরুই করেনি অনুশীলন। কোন কারণ নেই তবু কেউ কেউ আবার বড় দলগুলোর সঙ্গে কেবল সখ্যতা বাড়াতেই দাবি জানাচ্ছে সূচি পেছানোর! আরও কত কি! দিনশেষে এক দফা পিছিয়ে ঘরোয়া মৌসুম শুরু করতে না করতে দফায় দফায় বাফুফেকে চিঠি ক্লাবগুলোর। শেষ পর্যন্ত লিগ শুরু হলেও ফেডারেশন কাপের উদ্বোধনী দিনের সবগুলো ম্যাচ মাঠে গড়ানো নিয়ে কত নাটক!
ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের মতে, ঘরোয়া ফুটবলে শুধু নামকাওয়াস্তে নীতিমালা বানালেই হবে না। তা প্রয়োগের ক্ষেত্রে দেখাতে হবে শতভাগ পেশাদারিত্ব। প্রতি মৌসুমে বাফুফে বিশেষ কোনো ক্লাবের দাপটের কাছে নতজানু থাকলে তা ব্ল্যাকমেইল সংস্কৃতি হয়ে যাবে। এমনটাই মনে করেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম।
সাবেক অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম বলেন, আজকে ধরেন তিনটা ক্লাব অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, দুইদিন পর যে আরও দুইটা ক্লাব এইরকম হবে না, তার কিন্তু গ্যারান্টি দিতে পারবেন না। কেন? ওই স্পেসটা আপনি তাদের দিয়েছেন। যদি আপনি নীতিমালার বাইরে যদি না যেতেন, তাইলে এই প্রবলেমগুলি আপনাকে ফেস করতে হতো না, আপনাকে স্ট্রিক্ট হতে হতো। জিম্মি না? আপনি নিজেই তো আসলে ঘুরেফিরে আপনি চার বছর পর পর ইলেকশন করবেন, ভোট লাগবে, ক্লাবগুলির কাউন্সিলর শিপের ভোট লাগবে—এই জায়গাগুলিতে আপনি একটু নীতিমালার বাইরে চলে যায় আরকি আমাদের ফেডারেশনের কর্মকর্তারা।
এদিকে মোহামেডান-আবাহনীর মতো বড় ক্লাবগুলোর কাছে ফেডারেশনের এই নমনীয়তায় চূড়ান্ত খেসারত দিতে হবে মাঠের ফুটবলারদের। বারবার সূচি পেছানোর ফলে সময়মতো আসর শেষ করার পরিকল্পনায় খেলোয়াড়দের ইনজুরিতে পড়ার শঙ্কা বেড়ে যাবে।
মামুনুল ইসলাম বলেন, প্লেয়ারদের ইনজুরির সংখ্যা থাকবে। আপনি প্রপার যে ভালো ফুটবল, রিকভারির পর যে ভালো ফুটবলটা আপনারা দেখতে চাইবেন, ঐ ভালো ফুটবলটা নাও দেখতে পারেন।
ক্লাবগুলোর খামখেয়ালিপনা আর যখন-তখন ম্যাচ পেছানোর দাবিতে ক্লাবগুলোর চিঠি দেয়ার সংস্কৃতির রাশ টানতে বাফুফেকে এখনই কঠোর হওয়ার পরামর্শ মামুনুল ইসলামের।





