বাবাকে শেষ বিদায় জানাতে জন্মশহর রোজারিওতে মেসি

বিমান থেকে নামছেন মেসি ও তার পরিবারের সদস্যরা
বিমান থেকে নামছেন মেসি ও তার পরিবারের সদস্যরা | ছবি: সংগৃহীত
0

খেলার জগতের সব আলো আর উচ্ছ্বাস যেন একলহমায় ফিকে হয়ে গেল এক গভীর শোকে। ৬৮ বছর বয়সে দীর্ঘ অসুস্থতার পর জন্মশহর রোজারিওতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি। জীবনযুদ্ধে ফুটবলের সব পরম অর্জন যার হাত ধরে, সেই বাবাকে শেষবিদায় জানাতে মধ্যরাতে বিষাদগ্রস্ত মনে জন্মভূমিতে ফিরেছেন এলএমটেন।

রোজারিওর নিঝুম রাত। ‘ইসল্যাস মালভিনাস’ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে স্পর্শ করলো একটি ব্যক্তিগত বিমান। তবে এ আগমনে কোনো জাঁকজমক নেই, নেই ভক্তদের উচ্ছ্বাস কিংবা ক্যামেরার ফ্ল্যাশের ঝলকানি। নিস্তব্ধ রাতজুড়ে আজ কেবলই এক ভারী শোকের ছায়া

বিমানের সিঁড়ি বেয়ে ধীর পায়ে নেমে এলেন এক বিষাদগ্রস্ত লিওনেল মেসি। সঙ্গে স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো ও স্বজনেরা। মাঠের সবুজ ঘাসে বিশ্বকে হাসানো ফুটবলের পরম রাজপুত্র আজ শুধুই এক শোকাতুর সন্তান, যার মাথার ওপর থেকে চিরতরে সরে গেছে জীবনের সবচেয়ে বড় বটবৃক্ষের ছায়া।

আরও পড়ুন

রানওয়েতে থাকা গাড়ির কাছে গিয়ে লাগেজ সামলানোর ছোট ছোট দৃশ্যগুলোতে স্পষ্ট-কতটা মানসিক ক্ষত নিয়ে পা ফেলেছেন নিজের চেনা শহরে। শুক্রবার (৭ জুলাই) রাতে বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর আর এক মুহূর্তও স্থির থাকতে পারেননি এলএমটেন।

বিমানবন্দর কর্মী আর নিরব প্রটোকলের মধ্য দিয়ে দ্রুতই এলাকা ছাড়েন তারা। জীবনের শেষ কটি মাস রোজারিওর ক্লিনিক আর বাড়ির চার দেয়ালের মাঝে কাটে হোর্হে মেসির। স্ত্রী সেলিয়া, সন্তান রদ্রিগো, মাটিয়াস আর মারিয়া সোলের পর এবার শেষবারের মতো বাবাকে স্পর্শ করতে এলেন ফুটবল লিও।

রোজারিওর ‘এল প্রাদো’ গোরস্থান। সেখানেই সাময়িকভাবে রাখা রয়েছে হোর্হে মেসির মরদেহ। শৈশবে রোজারিওর গলি থেকে শুরু করে বার্সেলোনার সুউচ্চ শিখরে পৌঁছানোর পুরো গল্পে যিনি ছিলেন মেসির ম্যানেজার, অভিভাবক আর সবচেয়ে বড় আস্থা।

অর্জনের খাতা যতই পূর্ণ হোক, বাবার শূন্যতা যে কখনোই পূরণ হওয়ার নয়। অশ্রুসজল চোখে জন্মশহরে ফিরে এখন পরম ভালোবাসায় বাবাকে চিরবিদায় জানানোর প্রস্তুত নিচ্ছেন বিশ্বজয়ী এ মহাতারকা।

জেআর