ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের (The Guardian newspaper report) এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ফিফার এই বিপুল আয়ের উৎস, অভ্যন্তরীণ বিতর্ক ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিচে তুলে ধরা হলো (FIFA generates record 15 billion USD revenue from World Cup 2026)।
আরও পড়ুন:
লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আয়ের নেপথ্যে সেকেন্ডারি টিকিট কমিশন (FIFA ticket sales and hospitality package revenue)
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এই বিশ্বকাপ থেকে ১১ বিলিয়ন বা ১ হাজার ১০০ কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা (FIFA 11 billion dollar initial revenue target) নির্ধারণ করেছিল। তবে মাঠের লড়াই গড়াতেই সেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে অতিরিক্ত ৪ বিলিয়ন ডলার পকেটে পুরেছে ফিফা।
এই অতিরিক্ত আয়ের সিংহভাগ এসেছে আতিথেয়তা ও টিকিট বিক্রি (hospitality and high price match tickets), বিশেষ করে উচ্চমূল্যের সেকেন্ডারি টিকিটের বাজার (secondary ticket market commission) থেকে। জানা গেছে, সেকেন্ডারি বাজারে টিকিট কেনাবেচার ক্ষেত্রে ফিফা ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষের কাছ থেকেই ১৫ শতাংশ করে কমিশন (15 percent commission on ticket sales) নিয়েছে।
এমনকি নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেন বনাম আর্জেন্টিনার মধ্যকার মেগা ফাইনালের (Spain vs Argentina world cup final) আগের সন্ধ্যা পর্যন্তও ফিফার টিকিট পোর্টালে ভিআইপি ও হসপিটালিটি প্যাকেজের টিকিট বিক্রি হতে দেখা গেছে। এর মধ্যে প্রিমিয়াম 'ট্রফি লাউঞ্জ প্যাকেজের' (exclusive trophy lounge package) প্রতিটি টিকিটের দাম ছিল ৩৪ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার। টিকিটের এই আকাশছোঁয়া দামই ফিফার ব্যাংক ব্যালেন্স এতটা বাড়িয়ে দিয়েছে।
আরও পড়ুন:
ট্রাম্পের চাপ, লাল কার্ড বিতর্ক ও ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচন (Gianni Infantino re election and Donald Trump political pressure)
এই বিপুল আর্থিক সাফল্য ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর (FIFA President Gianni Infantino) জন্য এক বড় স্বস্তির খবর। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর এই যৌথ বিশ্বকাপ জুড়েই নানা বিতর্ক ও ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। বিশেষ করে, নকআউট পর্বে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের পর যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড প্রত্যাহারের (Folarin Balogun red card controversy) ঘটনায় ফিফা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।
ফুটবল মহলে গুঞ্জন ওঠে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক চাপের (US President Donald Trump political pressure) কাছে নতি স্বীকার করেছে ফিফা। যদিও ফিফার দাবি, তাদের স্বাধীন শৃঙ্খলা কমিটি (FIFA independent disciplinary committee) এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তবুও ইউরোপের বিভিন্ন ফুটবল সংস্থার মধ্যে এ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ রয়ে গেছে।
তবে এই রেকর্ড আয়ের কারণে আগামী মার্চে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা নির্বাচনে ইনফান্তিনোর অবস্থান আরও শক্তিশালী হলো। ইতিমধ্যে তিনি ২০০টিরও বেশি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের সমর্থন (support from 200 member associations) পেয়ে গেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, বিশ্বকাপ থেকে হওয়া এই বাড়তি আয়ের একটি অংশ সদস্যদেশগুলোর ফুটবল উন্নয়ন ফান্ডের (FIFA development fund allocation for member countries) মাধ্যমে বণ্টন করা হবে, যার ফলে অনেক সদস্যসংস্থাই এখন প্রকাশ্যে অসন্তোষ দেখানো থেকে বিরত থাকবে।
আরও পড়ুন:
২০৩৮ সালে আবারও মার্কিন মুলুকে বিশ্বকাপ? (United States host country prospects for World Cup 2038)
যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বিশ্বকাপের এই বিপুল আর্থিক সাফল্যের কারণে ভবিষ্যতে আবারও সেখানে বিশ্বমঞ্চের আসর বসার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে। ফিফার বর্তমান ঘূর্ণায়মান নিয়ম অনুযায়ী, ২০৩৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2038 host country country loop) আবারও যুক্তরাষ্ট্রের একক আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে পারে।
সম্প্রতি এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবারও এককভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করতে আগ্রহী (US eager to host world cup again)। তিনি কানাডা ও মেক্সিকোকে বাদ দিয়ে শুধু যুক্তরাষ্ট্রকে আয়োজক হিসেবে বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান। এ ছাড়া ২০২৯ সালের ক্লাব বিশ্বকাপ (FIFA Club World Cup 2029) আয়োজন নিয়েও ফিফার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: রেকর্ড ১৫ বিলিয়ন ডলার আয়ের বিবরণী
একনজরে: ফিফার আর্থিক লক্ষ্যমাত্রা বনাম রেকর্ড সাফল্য এবং ইনফান্তিনোর বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান
প্রাথমিক আয়ের লক্ষ্যমাত্রা
১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা
প্রকৃত রেকর্ড আয় (সর্বশেষ)
১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
প্রায় ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা
অতিরিক্ত আয়ের মূল উৎস
আতিথেয়তা (Hospitality) খাত ও সেকেন্ডারি বাজারে প্রতিটি টিকিট কেনাবেচায় উভয় পক্ষের থেকে ১৫% করে ফিফার কমিশন। মেগা ফাইনালে সর্বোচ্চ 'ট্রফি লাউঞ্জ' প্যাকেজের প্রতিটি টিকিটের দাম ছিল ৩৪,৫০০ ডলার।
ইনফান্তিনোর রাজনৈতিক অবস্থান
বালোগুনের লাল কার্ড প্রত্যাহার বিতর্ক ও ট্রাম্পের চাপের মুখে পড়ার সমালোচনা সত্ত্বেও বিপুল আয়ের সুবাদে ২০০টিরও বেশি সদস্য দেশের সমর্থন পেয়ে আগামী মার্চে পুনর্নির্বাচনে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর চেয়ার আরও শক্তিশালী হলো।
ভবিষ্যৎ মার্কিন পরিকল্পনা
বিপুল আর্থিক সাফল্যের জেরে ২০২৯ সালের ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজন এবং ২০৩৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ এককভাবে আবারও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সম্ভাবনা প্রবল হচ্ছে।
অর্থনৈতিক তুলনা: ফিফার এই এক বিশ্বকাপের আয় বাংলাদেশের জাতীয় অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্প (ADP) বরাদ্দের প্রায় তিন ভাগের দুই ভাগের সমান। এই রেকর্ড আয়ের একটি বড় অংশ ধাপে ধাপে ২১১টি সদস্য দেশের ফুটবল বোর্ডে বণ্টন করা হবে।
আর্থিক ও রাজনৈতিক সূচক
ফিফার পরিসংখ্যান ও তথ্য
বাংলাদেশি মুদ্রায় রূপান্তর ও প্রভাব
বিশ্বকাপ ২০২৬ এর সব খবর সবার আগে পেতে ,ক্লিক করুন এখানে,।
আরও পড়ুন:




