রেফারি শেষ বাঁশি বাজাতেই ডালাস স্টেডিয়ামের একপ্রান্তে নেমে এলো বিষন্নতা। স্পেনের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিতের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলো পর্তুগাল। ম্যাচ শেষে ক্যামেরা খুঁজে নেয় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে। হতাশায় ভেঙে পড়া সিআর সেভেন দাঁড়িয়ে ছিলেন একা। জনা কয়েক সতীর্থ এসে আলিঙ্গন করলেও সেটি যেন ছিল শুধুই আনুষ্ঠানিকতা।
২০২২ বিশ্বকাপে মরক্কোর কাছে হারের পর অনেকেই ভেবেছিলেন, সেখানেই শেষ রোনালদোর বিশ্বকাপ অধ্যায়। কিন্তু হার না মানা এই ফুটবলার নিজেকে আরও চার বছর প্রস্তুত করেন তিনি। যদিও টুর্নামেন্টে তার পারফরম্যান্স তুলে দিয়েছে বড় প্রশ্ন।
পুরো আসরেই পর্তুগাল দলে নিজেকে খুঁজে ফিরেছেন রোনালদো। সতীর্থদের সঙ্গে বোঝাপড়ার অভাব, আক্রমণে সীমিত প্রভাব আর পুরনো ধার হারানো পারফরম্যান্স- সব মিলিয়ে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ তিনি। টুর্নামেন্টে পাঁচ ম্যাচে তার অর্জন তিন গোল। অন্যান্য সব পরিসংখ্যান কথা বলছে তার বিপক্ষেই।
আরও পড়ুন:
সবমিলিয়ে ৬ আসরে ২৭ ম্যাচে ১১ গোল করেছেন রোনালদো। এর মাঝে দশটিই গ্রুপ পর্বে। পেনাল্টি থেকে চলতি আসরে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পাওয়া গোলে কাটিয়েছেন নক আউটের গোল খরা। নামের পাশে অ্যাসিস্ট মাত্র দুটি।
বিদায়ের ম্যাচে অষ্টম হারে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ ম্যাচ হারে রেকর্ড গড়েছেন রোনালদো। নকআউটে খেলা কোনো ম্যাচেই গোলের জন্য দুটির বেশি শট নিতে পারেননি। চলতি বিশ্বকাপে ১৭ শট নিয়ে পাননি গোলের দেখা। এক আসরে সতীর্থদের সুযোগ না দিয়ে সবচেয়ে বেশি শটের রেকর্ড এটি। আসরজুড়ে নেই একটি সফল ড্রিবল, প্রতি ম্যাচে বল হারিয়েছেন গড়ে প্রায় সাড়ে চারবার করে।
তবে ব্যর্থতার আড়ালেও বেশ কিছু কীর্তি গড়েছেন রোনালদো। পর্তুগালের হয়ে সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলা সিআর সেভেন ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করা একমাত্র ফুটবলার। সবচেয়ে বেশি বয়সে জোড়া গোল করা, দ্বিতীয় বয়স্ক গোলদাতাসহ বিশ্বকাপ ইতিহাসে আরও কয়েকটি অনন্য রেকর্ডের মালিক তিনি।
চোখের পানিতেই বিশ্বকাপ অধ্যায় শেষ করলেন রোনালদো। বিদায়বেলায় তার নামের পাশে যেমন আছে গর্বের রেকর্ড, তেমনই কিছু আছে লজ্জারও। শেষবেলায় যেন একটি প্রশ্নই রেখে গেলেন সিআর সেভেন, এমন পারফরম্যান্সে আরেকটি আসর খেলার কি আসলেও খুব দরকার ছিলো?





