এই ঐতিহাসিক জয়ের মাধ্যমে নরওয়ে ফুটবল দল (Norway Football Team) প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে (World Cup Quarter-finals) খেলার যোগ্যতা অর্জন করল। একই সাথে টুর্নামেন্টে নিজের গোলসংখ্যা ৭-এ নিয়ে গিয়ে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে (Golden Boot Race) লিওনেল মেসি (Lionel Messi) ও কিলিয়ান এমবাপ্পের (Kylian Mbappe) পাশে যৌথভাবে শীর্ষে উঠে এসেছেন হলান্ড।
আরও পড়ুন:
প্রথমার্ধের নাটকীয়তা ও নিলান্ডের পেনাল্টি সেভ (MetLife Stadium Match Highlights)
নিউইয়র্ক-নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর বা রাউন্ড অব ১৬ (Round of 16)-এর এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল চরম উত্তেজনাপূর্ণ। ম্যাচের শুরুতেই নরওয়ের প্যাট্রিক বার্গের একটি গোল অফসাইডের (Offside goal) কারণে বাতিল হয়। অন্যদিকে, ১৩তম মিনিটে পেনাল্টি পেয়েও তা হেলায় হারায় সেলেসাওরা। ব্রুনো গিমারাইসের (Bruno Guimaraes) নেওয়া দুর্বল স্পটকিকটি ডানদিকে দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন নরওয়েজিয়ান গোলরক্ষক ওরইয়ান নিল্যান্ড (Orjan Nyland penalty save)। ফলে প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ব্যবধানে।
কোচের মাস্টারস্ট্রোক ও হলান্ড ম্যাজিক (Haaland Brace vs Brazil)
দ্বিতীয়ার্ধে কৌশল বদলে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন নরওয়ের কোচ স্টালে সলবাকেন। বিরতির পর দুই উইঙ্গারকে তুলে তিনি মাঠে নামান আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপ ও অস্কার ববকে। কোচের এই চালই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট (Turning point) হয়ে দাঁড়ায়।
- প্রথম গোল (৭৯ মিনিট): শেলদেরুপের নিখুঁত ক্রস থেকে ডি-বক্সের ভেতর দুর্দান্ত হেডে গোল করেন ম্যানচেস্টার সিটির গোলমেশিন হলান্ড।
- দ্বিতীয় গোল (৮৯ মিনিট): আবারও সেই শেলদেরুপের পাস থেকে ডি-বক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতির শটে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার (Erling Haaland double goals)।
ম্যাচের যোগ করা সময়ের (১০০তম মিনিটে) কাসেমিরো ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। স্পটকিক থেকে গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন নেইমার (Neymar penalty goal)। তবে তা ব্রাজিলের বিদায় আটকাতে পারেনি। এর ফলে ১৯৯০ সালের পর প্রথমবার শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিল ব্রাজিল এবং ২০০২ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের (Brazil knockout record against European teams) কাছে আরও একবার পরাস্ত হলো তারা।
আরও পড়ুন:
ম্যাচ শেষে প্রতিক্রিয়া ও নেইমারের বিদায় (Neymar Retires from International Football)
ম্যাচ শেষে হতাশ ব্রাজিল অধিনায়ক মারকিনিয়োস বলেন, ‘বিশ্বকাপে যে দল কম ভুল করে তারাই জেতে, আমরা সুযোগ হাতছাড়া করেছি।’ অন্যদিকে জয়ের নায়ক হলান্ড উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি সুযোগ পেলে সাধারণত সেটাকে গোলে পরিণত করতে পারি। মনোযোগ ধরে রাখাই এখানে আসল ছিল।’ এই গোলের মাধ্যমে টানা ১৪টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে গোল করার অনন্য রেকর্ড (Haaland scoring streak) অক্ষুণ্ণ রাখলেন হলান্ড।
ব্রাজিলের হয়ে একমাত্র গোলটি করে কিংবদন্তি পেলের পর দ্বিতীয় ব্রাজিলিয়ান হিসেবে ৪টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার রেকর্ড গড়েন নেইমার। তবে দলের এই লজ্জাজনক বিদায়ের পর মাঠেই চোখের জলে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর (Neymar international retirement news) ঘোষণা করেন ব্রাজিলের এই সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা (Brazil all time top scorer)।
ইতিহাস গড়া এই জয়ের পর কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের (Mexico vs England) মুখোমুখি হবে উড়ন্ত নরওয়ে।
আরও পড়ুন:
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: একনজরে গোল্ডেন বুটের শীর্ষ লড়াই ও সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকা
Golden Boot Race 2026: Top Goal Scorers and Stats at a Glance
আর্লিং হলান্ড
নরওয়ে
৭ টি
কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত
লিওনেল মেসি
আর্জেন্টিনা
৭ টি
নকআউট পর্বের ম্যাচ বাকি
কিলিয়ান এমবাপ্পে
ফ্রান্স
৭ টি
নকআউট পর্বের ম্যাচ বাকি
ফিফা টাই-ব্রেকার নিয়ম
গোল সংখ্যা সমান হলে যার "অ্যাসিস্ট" (Assist) বেশি থাকবে তিনি গোল্ডেন বুট পাবেন। অ্যাসিস্টও সমান হলে যে খেলোয়াড় মাঠের কম সময় (Less Minutes Played) খেলেছেন, তিনি বিজয়ী হবেন।
খেলোয়াড়ের নাম
(Player Name)দেশ ও ক্লাব
(Country & Club)মোট গোল
(Total Goals)পরবর্তী ম্যাচ ও সম্ভাবনা
(Next Match Status)
(Erling Haaland)
(ম্যানচেস্টার সিটি)
(মংল্যান্ড-এর বিপক্ষে)
(Lionel Messi)
(ইন্টার মায়ামি)
(গোল বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে)
(Kylian Mbappe)
(রিয়াল মাদ্রিদ)
(শিরোপা ও বুটের অন্যতম দাবিদার)
(FIFA Tie-Breaker Rule)
আরও পড়ুন:



