বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রাখাটা যেকোনো ফুটবলারের জন্য চূড়ান্ত স্বপ্ন। কিন্তু নিয়তি কিংবা জন্মভূমির সীমাবদ্ধতা অনেক বড় মহাতারকাকেও বঞ্চিত করেছে এই মহামঞ্চ থেকে। চলুন জেনে নেয়া যাক এমনই ৫ হতভাগ্য জাদুকরের গল্প।
বিশ্বকাপে না খেলা মহাতারকাদের মধ্যে সবচেয়ে হতবাক করা নাম আলফ্রেডো ডি স্টেফানো। ফুটবলে আর্জেন্টিনা ও স্পেন দুটি ভিন্ন দেশের প্রতিনিধিত্ব করেও কখনো বিশ্বকাপে নামা হয়নি তার। স্টেফানোর সোনালি সময় অর্থাৎ ১৯৫০ ও ১৯৫৪ সালে বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি আর্জেন্টিনা। পরবর্তীতে স্পেনের নাগরিকত্ব নিয়ে ১৯৬২ বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করলেও, এক গুরুতর ইনজুরিতে সেই বিশ্বকাপ থেকেও ছিটকে যেতে হয় তাকে।
অথচ ক্লাব ফুটবলে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে জিতেছেন টানা ৫টি ইউরোপীয় কাপ যা বর্তমানে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নামে সুপরিচিত। এছাড়া নামের পাশে রয়েছে ৮ লা-লিগা শিরোপা, ৩০৮ গোল , দুই ব্যালন এবং এক সুপার ব্যালন ডি’অর জিতে বনে গেছেন ক্লাবটির সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়। এমনকি ফুটবলের রাজা পেলেও এই কিংবদন্তিকে সর্বকালের সেরা বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।
আরও পড়ুন:
দেশের কারনে বিশ্বকাপ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন জর্জ বেস্টও। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই আইকন ১৯৬৮ সালে জিতেছিলেন ব্যালন ডি'অর। ইতিহাসের সেরা ন্যাচারাল উইঙ্গার মনে করা হয়। এমনকি ১৯৭০ এর এফএ কাপ ফাইনালে একাই করেছিলেন ডাবল হ্যাটট্রিক অর্থাৎ ৬ গোল। কিন্তু তার দেশ নর্দান আয়ারল্যান্ডের দুর্বল স্কোয়াডের জন্য জর্জের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার কেবল বাছাইপর্ব আর প্রীতি ম্যাচেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়।
এসি মিলানের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা তো বটেই, এখনো সিরি আ লিগে ৩য় সর্বোচ্চ গোলদাতার নাম গুনার নর্দাল। ইতালির লিগে ২২৫ গোল করা এই তারকা নিজ দেশ সুইডেনের হয়েও ৩৩ ম্যাচে করেছিলেন ৪৩ গোল। কিন্তু ১৯৪৯ সালে ইতালি পাড়ি দেয়াই তার জন্য কাল হয়। তৎকালীন সুইডিশ নিয়মানুযায়ী, প্রবাসী পেশাদার ফুটবলারদের জাতীয় দলে নেয়া ছিল নিষিদ্ধ। এই নিয়মের গ্যাঁড়াকলে পড়ে দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন অধরাই থেকে যায় এই তারকার।
ইতিহাসের একমাত্র আফ্রিকান ফুটবলার হিসেবে ১৯৯৫ সালে ব্যালন ডি'অর জয়ের কীর্তি গড়েন লাইবেরিয়ার জর্জ ওয়াহ। পিএসজি ও এসি মিলানের এই কিংবদন্তি ক্লাব ফুটবলে ট্রফির বন্যা বইয়ে দিলেও, লাইবেরিয়ার মতো ছোট ফুটবল পরাশক্তির হয়ে একা লড়াই করে বিশ্বকাপ মঞ্চে পৌঁছানো তার পক্ষে আর সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে দেশটির প্রেসিডেন্ট হলেও নিজের এই আক্ষেপ ঘোচাতে পারেননি তিনি।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে ২৪ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ১৩টি প্রিমিয়ার লিগ ও ২টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ ৩৫টি ট্রফি জিতেছেন রায়ান গিগস। তবে ওয়েলস জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ ২৩ বছরে একবারও বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেননি এই উইঙ্গার। যা আন্তর্জাতিক ফুটবলে অন্যতম বড় এক অপূর্ণতা।





