হাসানের এই সাফল্যের পেছনে ছিল না কোনো জটিল পরিকল্পনা। বরং একই জায়গায় ধারাবাহিকভাবে বল করে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের ভুলের অপেক্ষায় ছিলেন এই পেসার। লাইন-লেন্থ ঠিক রেখে চাপ তৈরি করেই মিলেছে সাফল্য।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে ৫ উইকেট নেয়ার কীর্তি গড়েছেন হাসান। তার ছয় শিকারের বেশির ভাগই এসেছে অফস্টাম্পের আশপাশে বল রেখে ব্যাটারদের চাপে ফেলার মাধ্যমে।
জেক ওয়েদারাল্ড অফস্টাম্পের বাইরে জায়গা দেয়া বলে এজ হয়ে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন। এরপর লেন্থের বলে ট্রাভিস হেডের ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে বল আঘাত করে স্টাম্পে। প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্কও কিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।
অস্ট্রেলিয়া আট উইকেট হারানোর পরও পরিকল্পনা থেকে সরে যাননি হাসান। লেন্থে সামান্য পরিবর্তন এনে ছোট করে বল করেন তিনি। তাতেই পুল করতে গিয়ে ক্যাচ দেন স্টিভ স্মিথ। পরে নাথান লায়নও একই ধরনের শট খেলতে গিয়ে মিডউইকেটে ক্যাচ তুলে দেন।
অর্থাৎ ছয় উইকেটের জন্য ছয় ধরনের পরিকল্পনা নয়; লাইন, লেন্থ আর চাপ তৈরির একই মন্ত্রেই সফল হয়েছেন হাসান।
আরও পড়ুন:
ইনিংস বিরতিতে ফক্স ক্রিকেটকে হাসান জানান, অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে পেরে তিনি রোমাঞ্চিত ছিলেন। বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে এই কন্ডিশনে খেলার সুযোগ পাওয়াকে দারুণ অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে তিনি জানান, শুধু লাইন-লেন্থ ঠিক রেখে প্রক্রিয়াটা ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন এবং অধিনায়কের নির্দেশনা অনুসরণ করেছেন।
হাসানের ৬/৫৫ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে বাংলাদেশের কোনো বোলারের সেরা বোলিং ফিগার। এর আগে ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে মাশরাফি বিন মুর্তজা ৭৪ রানে নিয়েছিলেন ৩ উইকেট। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে টেস্টে এটি তৃতীয় সেরা বোলিং ফিগার।
হাসানের সঙ্গে বাংলাদেশের পেস আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেন। দু’জনই নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। ফলে অস্ট্রেলিয়ার ১০টি উইকেটই নিয়েছেন বাংলাদেশের তিন পেসার।
টেস্টে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের পেসাররা প্রতিপক্ষের এক ইনিংসে ১০ উইকেট নেয়ার কীর্তি গড়লেন। এর আগে ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে এমন নজির দেখা গিয়েছিল। সেবারও পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন হাসান।
বাংলাদেশের পেসারদের এমন ধারাবাহিকতায় মুগ্ধ অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারও। ফক্স ক্রিকেটের বিশ্লেষণে তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো প্রতিপক্ষ দলকে প্রথমবারের মতো শুরু থেকেই ধারাবাহিকভাবে সঠিক জায়গায় বল করতে দেখেছেন।’





