অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে দুই যুগের অপেক্ষা অবসান; টেস্টে মুখোমুখি বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া

প্যাট কামিন্স ও মুশফিকুর রহিম
প্যাট কামিন্স ও মুশফিকুর রহিম | ছবি: সংগৃহীত
0

প্রায় দুই যুগের অপেক্ষা শেষে অবশেষে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় ভোরে অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে শুরু হবে বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়ার দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট। ইনজুরিজর্জর বাংলাদেশের বিপক্ষে এরইমাঝে শক্তিশালী একাদশ ঘোষণা করেছে অজিরা। বিপরীতে বাংলাদেশ অপেক্ষায় সেরা একাদশ খুঁজে নিতে।

প্রস্তুতি ম্যাচে ইনিংস ব্যবধানে হারের পর কোণঠাসা বাঘেদের আরো কিছুটা ভয় ধরাতেই কিনা স্টার্ক, কামিন্স, হ্যাজেলউড ত্রয়ীকে মাঠে নামানোর ঘোষণা ম্যাচের একদিন আগেই দিয়ে ফেলেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার একাদশটা দেখলে বোঝার উপায় নেই প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ। ইনজুরির কারণে যখন টাইগাররা এমনিতেই দুশ্চিন্তায়, তখন মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে আরেকটু এগিয়ে থাকার চেষ্টাই হয়তো করেছে অজিরা। নয়তো সপ্তাহখানিক ধরে চলা গুঞ্জন উড়িয়ে কেন স্কট বোল্যান্ডকে এই ম্যাচে বিশ্রাম দেবেন কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড?

ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকে শোনালো আত্মবিশ্বাসী। নিজেদের নিয়েই কথা বললেন বেশি, বাংলাদেশ প্রসঙ্গে অজি অধিনায়কের উত্তর ছিল সাদা-মাটা।

অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের অধিনায়ক প্যাট কামিন্স বলেন, ‘বেশ অনেকটাদিন ধরেই ওদের সঙ্গে টেস্ট খেলা হয়না। তারা অবশ্যই শক্ত দল। এমন অনেকেই আছে, যাদেরকে আমরা আগে কখনোই মোকাবেলা করিনি। টেস্টে সবসময় একটা অজানা ভয় থাকে। গত কয়েকবছরে ওরা বড় কিছু জয় পেয়েছে। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’ 

অস্ট্রেলিয়া যখন আত্মবিশ্বাসে ভরপুর, তখন বাংলাদেশ খুঁজতে চাইবে বিপর্যয় ঠেকানোর রাস্তা। লিটন দাস ফিট হয়ে টেস্ট খেলবেন—সেটা আগেই জানিয়ে দিয়েছেন অধিনায়ক শান্ত। কিন্তু তিন পেসারের কম্বিনেশনে তাসকিন, হাসান মাহমুদের সঙ্গী আসলে কে হবেন—তা নিয়েই থাকবে প্রশ্ন। তবে সবকিছু ছাপিয়ে টাইগার দলপতির কণ্ঠে শুধুই ভালো খেলার প্রত্যাশা।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, ‘আমরা তো খেলোয়াড় হিসেবে ৫দিন ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই। প্রতিটা সেশন বাই সেশন খেলতে চাই, যেটা আমরা সবসময় বলি। একেকটা সেশন গুরুত্বপূর্ণ। চারদিন যাবে নাকি পাঁচদিন যাবে না তিনদিন যাবে, এ ধরণের আলোচনা থাকবেই। কিন্তু খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের সবসময় লক্ষ্য থাকবে আমরা কত ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি।’  

দুই দলে এখন পর্যন্ত মুখোমুখি ৬ ম্যাচে ১ জয় বাংলাদেশের। অজিদের ডেরায় ২ ম্যাচেই ছিল ইনিংস ব্যবধানে হার। ইতিহাসের অন্যতম সফল বোলিং লাইনাপের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ মান বাঁচানোর টেস্ট খেলতে পারে কিনা, সেটাই দেখার অপেক্ষা ডারউইনে।

এএম