বিগ ব্যাশে নতুন নিয়ম: যিনি ব্যাট করবেন তিনি ফিল্ডিং করবেন না!

বিগ ব্যাশ লিগ
বিগ ব্যাশ লিগ | ছবি: এখন টিভি
0

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ব্যাকরণ বদলে দিতে বরাবরই নতুন সব চমক নিয়ে আসে অস্ট্রেলিয়ার ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশ লিগ (Big Bash League - BBL)। আগামী ২০২৬-২৭ মৌসুম (BBL|16) থেকে দর্শকদের বিনোদনে নতুন মাত্রা যোগ করতে চালু হচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন এক নিয়ম— ‘ডেজিগনেটেড ব্যাটার ও ফিল্ডার’ (Designated Batter and Fielder Rule)।

একনজরে বিগ ব্যাশে নতুন নিয়ম নিয়মটি (Big Bash League - BBL At a Glance)

বৈশিষ্ট্য (Feature)ডেজিগনেটেড ব্যাটার (Designated Batter)ডেজিগনেটেড ফিল্ডার (Designated Fielder)
ব্যাটিং (Batting)✅ হ্যাঁ❌ না
ফিল্ডিং (Fielding)❌ না✅ হ্যাঁ
বোলিং (Bowling)❌ না❌ না
কিপিং (Keeping)❌ না✅ হ্যাঁ

আরও পড়ুন:

নতুন নিয়মটি আসলে কী? (What is the New Rule)

বেসবল থেকে অনুপ্রাণিত এই নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি দল এখন থেকে একজন খেলোয়াড়কে শুধুমাত্র ব্যাটার কিংবা ফিল্ডার হিসেবে মাঠে নামাতে পারবে।

ডেজিগনেটেড ব্যাটার (Designated Batter): ইনি কেবল ব্যাটিং করবেন। ফিল্ডিং বা বোলিংয়ের কোনো ধকল তাকে সইতে হবে না।

ডেজিগনেটেড ফিল্ডার (Designated Fielder): ইনি কেবল ফিল্ডিং এবং প্রয়োজনে উইকেটকিপিং (Wicketkeeping) করবেন। তিনি ব্যাটিং বা বোলিং করার সুযোগ পাবেন না।

অধিনায়কদের টস (Bat Flip/Toss): এর আগেই মনোনীত ব্যাটার এবং ফিল্ডারের নাম জানিয়ে দিতে হবে। তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়; কোনো দল চাইলে প্রথাগত একাদশ (Traditional XI) নিয়েও খেলতে পারবে।

আরও পড়ুন:

কেন এই পরিবর্তন? (Why This Rule)

বিগ ব্যাশ লিগ ম্যানেজার অ্যালিস্টার ডাবসন জানিয়েছেন, এই নিয়ম দলগুলোকে আরও বেশি কৌশলগত পদক্ষেপ (Strategic Advantage) নিতে সাহায্য করবে। সাবেক অজি অধিনায়ক রিকি পন্টিং (Ricky Ponting) মনে করেন, এটি ক্রিস লিন বা গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের মতো প্রবীণ তারকাদের ক্যারিয়ার দীর্ঘায়িত করবে এবং ট্র্যাভিস হেডের মতো টেস্ট ক্রিকেটারদের ইনজুরির ঝুঁকি কমিয়ে বিবিএলে খেলতে উৎসাহিত করবে।

ইতঃপূর্বে আইপিএল-এ ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার (Impact Player) এবং বিবিএল-এ এক্স-ফ্যাক্টর (X-Factor Player) নিয়ম দেখা গেলেও, ‘ডেজিগনেটেড ব্যাটার’ নিয়মটিকে আরও সরাসরি এবং কার্যকর বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন:

বিগ ব্যাশ বনাম আইপিএল: নতুন নিয়মের পার্থক্য

বিগ ব্যাশ লিগের (BBL) নতুন ‘ডেজিগনেটেড ব্যাটার ও ফিল্ডার’ নিয়মটি আইপিএল-এর ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ নিয়মের সাথে অনেকটা মিল থাকলেও কৌশলগতভাবে এদের মধ্যে বড় কিছু পার্থক্য রয়েছে। একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো:

বৈশিষ্ট্য (Features)বিবিএল: ডেজিগনেটেড প্লেয়ার (Designated Player)আইপিএল: ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার (Impact Player)
ঘোষণার সময়টস বা ব্যাট ফ্লিপ-এর আগেই নাম জানাতে হয়।"টসের সময় ৫ জন সাবস্টিটিউটের নাম দিতে হয়, যে কোনো একজনকে নামানো যায়।"
কখন নামানো যায়?এটি ফিক্সড নিয়ম। ইনিংস বদলের সময় ব্যাটার ও ফিল্ডার জায়গা বদল করেন।ম্যাচের যে কোনো সময় (উইকেট পড়লে বা ওভার শেষে) নামানো সম্ভব।
ভূমিকা (Role)"ব্যাটার শুধু ব্যাট করবেন, ফিল্ডার শুধু ফিল্ডিং/কিপিং করবেন। কেউ বোলিং করতে পারবেন না।"ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার ব্যাটিং এবং বোলিং—উভয়ই করতে পারেন।
বাধ্যবাধকতা"এটি ঐচ্ছিক। দল চাইলে প্রথাগত ১১ জন নিয়ে খেলতে পারে।""এটিও ঐচ্ছিক, তবে আইপিএলের দলগুলো কৌশলগত কারণে এটি সবসময় ব্যবহার করে।"
মূল উদ্দেশ্যসিনিয়রদের ক্লান্তি কমানো এবং টেস্ট ক্রিকেটারদের ইনজুরি ঝুঁকি কমানো।অতিরিক্ত একজন ব্যাটার বা বোলার খেলিয়ে ম্যাচে বাড়তি সুবিধা নেওয়া।

আরও পড়ুন:

কেন বিবিএল-এর নিয়মটি আলাদা?

১. বোলিং করা নিষেধ: আইপিএলে একজন বোলারকে বসিয়ে অতিরিক্ত একজন ব্যাটারকে ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ হিসেবে নামানো যায়, যিনি ৪ ওভার বোলিংও করতে পারেন। কিন্তু বিবিএল-এর এই নতুন নিয়মে ‘ডেজিগনেটেড ব্যাটার’ বা ‘ফিল্ডার’ কেউই বোলিং করতে পারবেন না। এটি মূলত ব্যাটিং স্পেশালিস্টদের জন্য তৈরি।

২. কৌশলগত ভারসাম্য: বিবিএল-এর নিয়মে আপনি একজন ফিল্ডারকে নিচ্ছেন মানে আপনি একজন ব্যাটারকে হারাচ্ছেন (কারণ ফিল্ডার ব্যাটিং করতে পারবেন না)। কিন্তু আইপিএলে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ারের কারণে দলগুলো কার্যত ১২ জনের সুবিধা পায়, যা ব্যাটিং লাইনআপকে অনেক লম্বা করে দেয়।

৩. উইকেটকিপিং সুবিধা: বিবিএল-এর নিয়মে একজন দক্ষ কিপারকে কেবল ‘ডেজিগনেটেড ফিল্ডার’ হিসেবে খেলানো যাবে, যার ফলে প্রধান ব্যাটারদের ওপর কিপিংয়ের চাপ কমবে।

আরও পড়ুন:

বিগ ব্যাশ নতুন নিয়ম (BBL New Rule) সংক্রান্ত প্রশ্নোত্তর-FAQ

প্রশ্ন: বিগ ব্যাশে নতুন নিয়মটি আসলে কী?

উত্তর: নতুন নিয়মটির নাম ‘ডেজিগনেটেড ব্যাটার ও ফিল্ডার’। এর মাধ্যমে একটি দল একজন খেলোয়াড়কে শুধু ব্যাটিংয়ের জন্য এবং আরেকজনকে শুধু ফিল্ডিংয়ের জন্য ব্যবহার করতে পারবে।

প্রশ্ন: ডেজিগনেটেড ব্যাটার কি ফিল্ডিং করতে পারবেন?

উত্তর: না, ডেজিগনেটেড ব্যাটার হিসেবে মনোনীত খেলোয়াড় শুধু ব্যাটিং করবেন, তিনি ফিল্ডিং বা বোলিং করতে পারবেন না।

প্রশ্ন: ডেজিগনেটেড ফিল্ডার কি বোলিং বা ব্যাটিং করতে পারবেন?

উত্তর: না, মনোনীত ফিল্ডার শুধু ফিল্ডিং বা উইকেটকিপিং করতে পারবেন। তিনি ব্যাটিং বা বোলিং করতে পারবেন না।

প্রশ্ন: বিগ ব্যাশে নতুন নিয়মটি কি প্রতিটি ম্যাচে বাধ্যতামূলক?

উত্তর: না, এটি ঐচ্ছিক। কোনো দল চাইলে আগের মতো প্রথাগত ১১ জন খেলোয়াড় (Traditional XI) নিয়েও খেলতে পারবে।

প্রশ্ন: কখন এই খেলোয়াড়দের নাম ঘোষণা করতে হবে?

উত্তর: ম্যাচ শুরুর আগে ‘ব্যাট ফ্লিপ’ বা টসের আগেই অধিনায়কদের ডেজিগনেটেড ব্যাটার এবং ফিল্ডারের নাম জানিয়ে দিতে হবে।

প্রশ্ন: ডেজিগনেটেড ফিল্ডার কি উইকেটকিপিং করতে পারবেন?

উত্তর: হ্যাঁ, নতুন নিয়ম অনুযায়ী ডেজিগনেটেড ফিল্ডারকে উইকেটকিপার হিসেবে খেলানোর সুযোগ রয়েছে।

প্রশ্ন: আইপিএল-এর ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ নিয়মের সাথে এর পার্থক্য কী?

উত্তর: আইপিএল-এর ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার ব্যাটিং ও বোলিং উভয়ই করতে পারেন, কিন্তু বিবিএল-এর ডেজিগনেটেড প্লেয়ারকে নির্দিষ্ট একটি ভূমিকায় (শুধু ব্যাট বা শুধু ফিল্ড) সীমাবদ্ধ থাকতে হয়।

প্রশ্ন: বিগ ব্যাশে নতুন নিয়মটি কেন চালু করা হয়েছে?

উত্তর: মূলত সিনিয়র খেলোয়াড়দের কাজের চাপ (Workload) কমাতে এবং দর্শকদের জন্য খেলায় নতুন কৌশল ও রোমাঞ্চ যোগ করতে এই নিয়ম আনা হয়েছে।

প্রশ্ন: বিগ ব্যাশে নতুন নিয়মের ফলে কোন খেলোয়াড়রা বেশি উপকৃত হবেন?

উত্তর: ক্রিস লিন, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল বা মিচেল মার্শের মতো বয়স্ক বা চোটপ্রবণ তারকা ব্যাটাররা ফিল্ডিংয়ের ধকল ছাড়াই ব্যাটিং চালিয়ে যেতে পারবেন।

প্রশ্ন: আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের জন্য এটি কীভাবে সহায়ক?

উত্তর: ট্র্যাভিস হেডের মতো অল-ফরম্যাট ক্রিকেটাররা ফিল্ডিংয়ের সময় ইনজুরির ঝুঁকি ছাড়াই বিগ ব্যাশে অংশ নিতে উৎসাহিত হবেন।

প্রশ্ন: বিবিএল-এর পুরোনো ‘এক্স-ফ্যাক্টর’ নিয়মের সাথে এর মিল আছে কি?

উত্তর: কিছুটা মিল থাকলেও এক্স-ফ্যাক্টর নিয়মটি ছিল ইনিংসের মাঝপথে বদলি করার পদ্ধতি, আর নতুন নিয়মটি ম্যাচ শুরুর আগেই নির্ধারিত থাকে।

প্রশ্ন: বিগ ব্যাশে নতুন নিয়মটি কোন আসর থেকে কার্যকর হবে?

উত্তর: এটি বিগ ব্যাশ লিগের পরবর্তী ১৬তম আসর (BBL|16) অর্থাৎ ২০২৬-২৭ মৌসুম থেকে কার্যকর হবে।

প্রশ্ন: দর্শকরা কি গ্যালারিতে বল গেলে রেখে দিতে পারবেন?

উত্তর: হ্যাঁ, এটিও একটি নতুন নিয়ম। ম্যাচের প্রথম ওভারে চার বা ছক্কা হয়ে বল গ্যালারিতে গেলে দর্শক সেটি রেখে দিতে পারবেন; দ্বিতীয় ওভার থেকে নতুন বল ব্যবহার করা হবে।

প্রশ্ন: ডেজিগনেটেড ব্যাটার কি ম্যাচের মাঝপথে পরিবর্তন করা যাবে?

উত্তর: না, টসের সময় যাদের নাম দেওয়া হবে তারাই পুরো ম্যাচ খেলবেন। মাঝপথে অন্য কাউকে এই ভূমিকায় আনা যাবে না।

প্রশ্ন: নারী বিগ ব্যাশে (WBBL) কি এই নিয়ম থাকবে?

উত্তর: না, আপাতত এই নিয়মটি শুধুমাত্র পুরুষদের বিগ ব্যাশ লিগের জন্যই ঘোষণা করা হয়েছে।


এসআর