Recent event

তরুণদের বাকপটুতা ও প্রার্থীদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা: এক ব্যতিক্রমী নির্বাচনের সাক্ষী দেশ

জাতীয় সংসদ ভবন
জাতীয় সংসদ ভবন | ছবি: এখন টিভি
0

একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই সরকার গঠন করছে বিএনপি। তবে, বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত-এনসিপি যৌক্তিক বিরোধিতার মধ্য দিয়ে কার্যকর সংসদ গঠনে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা। সেইসাথে, তরুণ সংসদ সদস্যরা তাদের বাকপটুতা দিয়ে সংসদীয় বিতর্ক জমিয়ে তুলবে বলেও আশা করা হচ্ছে। এদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থাকার নিদর্শনও এবারের নির্বাচনের ব্যতিক্রম দিক বলে মত দিচ্ছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে দেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ। দলটির প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি এখন প্রধান দলের ভূমিকায়। প্রতিদ্বন্দ্বী পাল্টে সামনে এসেছে এতদিন রাজনীতিতে পার্শ্ব চরিত্রে থাকা জামায়াত।

১২ ফেব্রুয়ারি ভোটারের রায়ে ২১১টি আসনের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করছে বিএনপি। ৬৮টা আসন নিয়ে জামায়াত ও ৬ আসন নিয়ে সংসদের বিরোধী পক্ষে থাকবে এনসিপি। তাদের সরব উপস্থিতি সংসদকে প্রাণোচ্ছল করবে বলে আভাস দিচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

রাজনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘ইন্টারেস্টিং রাজনীতি হতে পারে যদি বিরোধীদল সত্যিকারের মোটিভকে মাথায় রেখে তারা যদি সংসদে তাদের যথাযথ ভূমিকাটা পালন করেন। অর্থাৎ, সরকারের ত্রুটি বিচ্যুতিগুলোকে প্রতিনিয়ত মনিটর করার চেষ্টা করে।’

আরও পড়ুন:

কম বয়সের সদস্য হিসেবে এবার সংসদে যাবেন, এমন সংখ্যাও চোখে পড়ার মতো। বাগযুদ্ধের সুনামও আছে তাদের। সংসদের অধিবেশন কিংবা রাজনৈতিক আন্দোলন--দুইক্ষেত্রেই তারুণ্য হবে এবারের বড় ভিন্নতা।

অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘লার্নিং অ্যান্ড ডুয়িং যেটা সেটা তরুণরা করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। তারা শিখবেন পার্লামেন্টে গিয়ে। কিন্তু একটা জায়গায় আশা করি তারা নিজেদের বিকিয়ে দেবেন না। জাতীয় স্বার্থে সরকারের প্রত্যেকটা সিদ্ধান্তকে তারা স্ক্রুটিনিং করবেন না। তারা প্রত্যেকটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ডিবেট করবেন।’

এদিকে, নির্বাচনের হার-জিতের সমীকরণ মেলার পর প্রার্থীদের একে অন্যের প্রতি সৌহার্দপূর্ণ আচরণ নজর কেড়েছে সবার। এটিকে ত্রয়োদশ সংসদের শুভযাত্রা হিসেবে দেখছেন সমাজ ও রাজনীতি বিশ্লেষকরা ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আমাদের থাকবে। কিন্তু এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন সহিংসতায় রূপ না নেয় সেই রাজনীতিই আমরা চেয়েছিলাম। সেই রাজনীতি যদি আজকালকার এই ২০২৬ এর সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে শুরু হয়, বাংলাদেশ পরিবর্তিত হয়ে যাবে। দেশের মানুষের নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তব হয়ে যাবে।’

মানুষ প্রতিজ্ঞা করে প্রতিজ্ঞা ভেঙে হাফ ছাড়ার জন্য। রাজনৈতিক বোদ্ধাদের অভিমত, এমন ঘটনার ভিন্ন উদাহরণ হলে, রাজনীতির আগুনের দিনগুলি মিশে যাবে সদ্যোজাত ঘাসের সবুজে।

ইএ