ত্রিনয়নী দশভুজা, আদ্যশক্তি মহামায়া—কত নামেই না ভক্তের হৃদয়ে অধিষ্ঠিত দুর্গতিনাশিনী দুর্গা। ভক্তি আর প্রার্থনায়, পবিত্র মন্ত্র উচ্চারণের মাতৃসংগীতের সুরে শরতের প্রথম সপ্তাহ থেকেই শুরু হয় তার আরাধনার প্রস্তুতি। আবহমান বাংলার রামপ্রসাদী গান আর ভক্তিগীতির সুরে মাতৃবন্ধনায় মগ্ন হন মহামায়ার ভক্তেরা।
ভক্তের হৃদয়ের সব অন্ধকার দূর করতে এবং অশুভ শক্তির বিনাশে দেবী দুর্গা আসবেন ধরাধামে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো সিলেটেও এখন শারদীয় উৎসবের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। দেবীর আরাধনার এই মহোউৎসবকে সুরের তালে রাঙাতে ব্যস্ত সঙ্গী শিল্পীরাও।
পূজাকে সামনে রেখে নতুন পোশাক, সাজসজ্জা আর ধর্মীয় আয়োজনে ব্যস্ত সময় পার করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। পৃথিবীর সব দ্বন্দ্ব, সংঘাত আর শান্তির অবসান ঘটিয়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির প্রার্থনা ভক্তদের।
আরও পড়ুন:
ভক্তদের মধ্যে একজন বলেন, ‘পূজা আসলে আসলে মনের মধ্যে আলাদা একটা আনন্দ কাজ করে। কারণ আমরা সারা বছরই অপেক্ষা করে থাকি এই সময়টার জন্য যে কখন আমরা মা হিসেবে নিয়ে আসবো এবং আমরা তাকে বরণ করে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হবো।’
অন্য একজন বলেন, ‘পূজা আসলেই আমরা আমাদের দুর্গার আরতি বা গানগুলো আমাদের রিহার্সাল শুরু হয়। এটাও আমাদের কে মনে এই অনুভূতির জায়গায় যে পূজা আসছে।’
সনাতন ধর্মাবলম্বী একজন বলেন, ‘পূজা আসলে আমরা আত্মীয়-স্বজন তারপর পরিবারের সবাই মিলে অঞ্চলে দিতে যাই। তো এটা আসলে অনেক বড় একটা ভালো লাগা কাজ করে। তারপর হচ্ছে আমরা প্রার্থনা যাতে এই সারা দেশের সবার মানুষের মঙ্গল হয়।’
নীল আকাশ জুড়ে এখন সাদা মেঘের ভেলা। মাঠে মাঠে দুলছে সাদা কাশফুল আর জানান দিচ্ছে আগমনীর আগমন বার্তা। দুর্গো পূজার আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এই সময়ে প্রতিমা শিল্পীরা ব্যস্ত তাদের নতুন নতুন প্রতিমা তৈরিতে আর সবাই ব্যস্ত উৎসবটিকে রাঙিয়ে তুলতে।
সিলেটের মৃৎশিল্পালয়গুলোতে এখন চলছে রং-তুলির শেষ আঁচড় দেয়ার কাজ। মাটির প্রতিমায় ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে দেবীর রূপ, সাজানো হচ্ছে মহামায়া ও তার পরিবারকে। এবছর সিলেট জেলা ও মহানগরী মিলিয়ে সর্বমোট ৬৩৬টি পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
আরও পড়ুন:
এদিকে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব সম্পন্ন করতে প্রশাসনের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছেন পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা। আর নিরাপদ পরিবেশে দুর্গোৎসব উদযাপনে প্রশাসন তৎপর রয়েছে বলে জানিয়েছে সিলেট মহানগর পুলিশ।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সিলেট মহানগরের সাধারণ সম্পাদক চন্দন দাস বলেন, ‘শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের পূজা-অচনার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান থাকে। গরিব-দুঃখী যারা আছেন তাদের মধ্যে অনেকে পূজামণ্ডপ বস্ত্র বিতরণ করে, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়, চিত্রাঙ্কনসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন হয়। এখন পর্যন্ত আমরা যেটা খবর পেয়েছি যে প্রতিটি পূজামণ্ডপেই সাজসজ্জার কাজ চলছে।’
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেন, ‘ফেসবুকে যদি কেউ কোনো একটা পোস্ট করে, এইটা যেন সঙ্গে সঙ্গে তারা এই ব্যাপারে রিয়েক্ট না করে যেন আমাদেরকে জানায়। আমরা এই যে ফেসবুক ওই সময়টায় আমরা এখানে হোয়াটসঅ্যাপে একটা গ্রুপ খোলা হলো যে, আমরা হোয়াটসঅ্যাপে একটা গ্রুপ খুলবো এই টোটাল মনিটরিং এর জন্য এবং এই ফেসবুকের পোস্ট মনিটরিং এর জন্য ওই সময় এই পার্টিকুলার টাইমে আমরা আমাদের লোক রাখবো যেন এইটা হলো যে নিয়মিত মনিটরিং করা হয়।’
সনাতন বিশুদ্ধ পঞ্জিকামতে এবার দেবী মর্ত্যে আসবেন ঘোড়ায় চড়ে এবং কৈলাসে ফেরত যাবেন নৌকায়।





